Uncategorized

যাহা বলিব সত্য বলিব

Shahzaman Shuvoh No Comments

সিনহা (এস.কে. সিনহা বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি। বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি মর্যাদা আর প্রেসিডেন্ট এর মর্যাদা তেমন ভিন্ন নয়।) আপনি দেশের ইতিহাস। কিন্তু আপনি ইতিহাস না হয়ে এখন ভিলেন হয়ে গেলেন। আপনি একটি বই লিখেছেন যা আমার জন্য নয় (An autobiography of former Chief Justice Surendra Kumar Sinha titled “A Broken Dream: Rule of Law, Human Rights and Democracy”)। এটা লিখেছন কয়েকজন রাজনৈতিকদের ঝগড়া বা গবেষণা জন্য। আপনি তো শুধু কয়েকজন রাজনীতির লোক নন। আপনি ১৬ কোটির মানুষের নিবেদিত প্রাণ। ১৬ কোটি লোকের টেক্সের টাকায় আপনার বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা। ১৬ কোটি লোকের ভাষায় বই না লিখে লিখেছেন গুটিকয়েক মানুষের জন্য। আমি যদি ভুল না করি তা হল সর্বস্তরের বাংলা ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। আর আপনি এই আদালতের প্রধান হয়েই ইংরেজিতে বই লিখলেন! বই লিখা, কোন অপরাধ নয়। আপনার বইও বাংলাদেশের ইতিহাস হবে কিন্তু ইংরেজিতে? আপনি নিশ্চয় আমাদের জন্য নয়, লিখেছেন শুধু আপনার আসল চরিত্র প্রকাশ করার জন্য। বাংলাদেশের প্রায় লোক রাজনীতিকে ব্যবসা মনে করে। আইনজীবীও ব্যবসা। ব্যবসায় লাভ করার প্রবনতা থাকতেই পারে। কিন্তু আইনজীবী যখন দেশের কর্মচারী বা চাকুরীজীবী হয় তাহলে ব্যবসায়ীদের মত লাভ বা ঘুষের প্রবনায় ব্যস্ত থাকাটা অন্যায় বা নৈতিকতায় বিহীন। আপনি দেশের বাহিরে নিজস্ব বিরাট অট্রলিকায় বাস করেন। দেশেও একটি একাউন্টে চার কোটি টাকা, আর যে কত সম্পত্তি আছে তার ইয়াত্তা নেই। বাকী ইতিহাসের জন্য আমরা আশাবাদী আপনি দেশের তথ্য পাচার করেছেন, না ঘুষখোর ছিলেন, না বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ?

চিরদিন জ্বলবে বেলায়েত হোসেনের বাতি

Shahzaman Shuvoh No Comments

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলী ও আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দানবীর মরহুম বেলায়েত হোসেন সরকারের স্বৃতিচারণে এক মিলাদ- মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকালে স্কুল কক্ষে এ আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা উওর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের আহবায়ক মো.নুর নবী চেয়ারম্যান। অএ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেসুর রহমানে’র সভাপতিত্বে স্বৃতিচারণ মূলক বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক মো.নাছির উদ্দিন,সহকারী শিক্ষক শাহ জামান শুভ,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো.আতিকুর রহমান।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো.মামুনুর রশিদ মামুনের পরিচালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো.সিদ্দিকুর রহমান মেম্বার,মো.মনির হোসেন,অএ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য মো.তোফায়েল হোসেন সিজদার, সাবেক অভিভাবক সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. কামাল হোসেন,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. ওমর ফারুক বাসার, মো. জামাল হোসেন,বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আজিমুদ্দিন, মো.খালেক মিয়াজী,মো.নাজমুল হাসান,মো.এনামুল হক,মো.দেলোয়ার হোসেন, মো.আব্দুর রহমান, শিক্ষিকা মোসাম্মৎ মৌসুমি আক্তার, মোসাম্মৎ রোকেয়া আক্তার, মোসম্মৎ রাসমা আক্তার, বাতাকান্দি বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. মাহবুব আলম বিল্লাল, মো.নুরুল ইসলাম মেম্বার,মো.আনিছ মিয় মেম্বার, কাজী বিল্লাল হোসেন ও মো.জুয়েল মিয়া প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে বাতাকান্দি সরকার বাড়ী জামে মসজিদের পেশ ইমাম আলহাজ্ব মাওলানা মজিবর রহমানের দোয়া পরিচালনা মাধ্যমে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও দানবীর মরহুম বেলায়েত হোসেন সরকারের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত শেষে সকলের মাঝে তাবারুক বিতরণ করা হয়। বিস্তারিতঃhttps://youtu.be/X3eAMIyQciA

সত্য কাহিনী মিথ্যা গল্প-০৫

Shahzaman Shuvoh No Comments

সরকার প্রাইভেট পড়ার দৌরাত্মায় অতৃষ্ট হয়ে একটা সাকুলার জারি করল যে, এখন থেকে বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্য সমাপ্তির পর বিদ্যালয়ে অনাগ্রসর ছাত্র/ছাত্রীদের অতিরিক্ত ক্লাশ করানো যাবে। বেতন ১৫০ টাকা করে এবং ১০% টাকা বিদ্যালয়ে দিতে হবে। বিভিন্ন চক, ডাস্টার, বিদ্যুৎ বিলের জন্য। শিক্ষকগণ বাড়িতেও প্রাইভেট পড়ালে প্রধান শিক্ষকের অনুমতি লাগবে। শিক্ষকগণ বাড়িতে নিজ বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রী পড়াতে পারবে না। অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পড়াতে পারবে তবে এই সংখ্যা দশজনের বেশী নয়। এই ধরনের সার্কুলার পেয়ে শিক্ষকগণ একটু ক্ষেপে গেল। কারণ তারা কারো কাছে জবাবদিহিতা পছন্দ করে না। সরকার হয়তো কোচিং নিয়ন্ত্রণ করতে চেয়েছিল কিন্তু দু এক দিন পর এই সার্কুলার তেমন কাজে আসেনি। কিন্তু কিছু কিছু প্রধান শিক্ষক এই সার্কুলারকে পুঁজি করে ১০% ব্যবসা শুরু করেছে। শিক্ষকগণ অনেক পরিশ্রম করে প্রাইভেট পড়ায় এবং ১০% দিতে হয় প্রধান শিক্ষককে। ১০% এর জন্য শিক্ষকদের বাধ্য করায় প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষক ১০% টাকা পকেটে ভরে আর মনে সুখে হাসে, ডিম পাড়ে হাসে, খায় বাঘডাসে।
একদিন প্রাইভেট পড়ানবিহীন গেইম টিচারটি বাউলপুরের প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করলেন,স্যার আপনি যে শিক্ষকদের কাছ থেকে ১০% কমিশন নেন এর বিনিময় আপনি বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎবিল বা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীতে দেন কি না? প্রধান শিক্ষক অত্যান্ত ঠান্ডা মেজাজের ভাইচারবিদ তাই কিছু বলেননি। পরে দু একজন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং কয়েকজন হাতের শিক্ষকের নিকট পরামর্শ চাইল গেইম টিচারকে কি শাস্তি দেয়া যায়। প্রধান শিক্ষককের হাতের লোকেরা বলল, এটা যেহেতু নাজুক বিষয় তাই বাড়াবাড়ি না করে দু একটা ঝারি দিয়ে দেন। তাতেই কাজ হবে। প্রধান শিক্ষক বুদ্ধিটা আমলে নিলেন এবং ভাবলেন যদি এটাতে কাজ না হয় তাহলে শোকচ এবং শোকচ তারপর বহিস্কার।

সত্য কাহিনী মিথ্যা গল্প-০৪

Shahzaman Shuvoh No Comments

দানুকে চুড়ান্ত শোকচ নয়, একমাসের জন্য স্কুল থেকে বহিস্কারের শোকচ। একমাস স্কুলে যেতে পারবে না। কোন ক্লাশ বা শ্রেণিকাজ করতে পারবে না। একমাস তদন্ত করবে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কনমিটির হলো তিন সদস্য বিশিষ্ট যা সাবেক কলেজ শিক্ষক এবং দানুর স্কেলের নীচের স্কেলের শিক্ষক। অর্থাৎ দানুর জুনিয়র দিয়ে দানুকে তদন্ত করাবে। অপমান কাকে বলে? এই একমাস দানু স্কুলে যেতে পারবে না, আবার অন্য কোথাও যেতে পারবে না। কোথাও গেলে প্রধান শিক্ষক, সাবেক প্রধান শিক্ষক বা উপদেষ্টা এবং তদন্ত কমিটির অনুমতি নিতে হবে। গৃহবন্দির কোন কিছু বাদ নেই। রাজনীতির বড় নেতাদের গৃহবন্দির কাহিনী পড়েছে আর আজ নিজেই গৃহবন্দি। আমাকে বললেন স্যার শেখ মুজিবুর রহমানে অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়েছেন? আমি বললাম আমি সবটা পড়েনি। দানু জানালো শেখ মুজিবরের এক চতুর্থাংশ কেটেছে জেলে। একদিন এই জেল আরেকদিন আরেক জেল এভাবে কেটেছে। আমি বললাম এত জেল কেন? দানু বললেন একজেলে বেশি থাকলে উনি সংগঠনে কাজ করে জনগনকে সংগঠিত করে ফেলবে তাই একজেলে তাকে পাকিস্তান সরকার রাখতে চায়নি। আমি বললাম একমাস অবসর পেয়ে ভালই হলো, এখন মুজিব চর্চা করুন। দানু বলল, দল যাই করি শেখ মুজিবের বিরুধী নই। আওয়ামীলীগের দুইগ্রুপের রেষারেষিতে আমার অবস্থা কাহিল।

সত্য কাহিনী মিথ্যা গল্প-০৩

Shahzaman Shuvoh No Comments

প্রধান শিক্ষক এবার চুরান্ত বহিস্কার করলেন দানু স্যারকে। দানু স্যার একটু এক রোখা মানুষ। প্রধান শিক্ষকের অত্যাচার আগেও সহ্য করেছে। কিন্তু এবার দুজন প্রধান শিক্ষক। সাবেক প্রধান, বর্তমান প্রধান শিক্ষকের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে আর স্কুল ভাউচার দিয়ে মাসে বিশ হাজার টাকা নেয়। বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক মাথা উচু করে দাড়ালে উপদেষ্টার মতামত নিয়ে প্রধান শিক্ষক সাময়িক বহিস্কার করেন। এই খড়্গটা সহজ হয়ে গেছে পকেট ম্যানেজিং কমিটির কারণে। ম্যানেজিং কমিটির মিটিং হলে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদেরকে মিটিং শেষে একটি করে হলুদ খাম ধরিয়ে দেয় সম্মানী স্বরুপ। ফলে স্কুল এর আয় ব্যয় নিয়ে কমিটি মাথা ঘামায় না। সভাপতির ঘামটি হলুদ নয়। উনারটা ব্যতিক্রম। দানু স্যারের সাময়িক বহিস্কারের জবাব ম্যানেজিং কমিটির মন মত হয়নি তাই চুরান্ত বহিস্কার করা হয়েছে দানু স্যারকে। দানু স্যার একটু সাহিত্য সাহিত্য লিখা লেখি করে তাই কাব্যিক জবাব সঠিক হয়নি।
সত্য কথা যদি কাব্যিক ভাষায় তীর্যক হয় তাহলে তো মালিক পক্ষ ক্ষেপে যাবে। তাছাড়া দেখতে নারি চলন বাকা হয়। ফলে শোকচের জবাবটা পাশ কাটিয়ে চুরান্ত বহিস্কার করা হল দানু স্যারকে। দানু স্যারের সাবেক সহকর্মী বর্তমানে বস তাই একটু সাবধানে চলা উচিত ছিল। মহিলা সহকর্মীর দিকে হয়তো কোন অশালীন আচরণ আগে লক্ষ্য করছিল যা এতদিনে এসে ছাত্রী ইভটিজিং এর অজুহাত দিয়ে সাময়িক বহিস্কার করা। দানু স্যারের প্রতি কোন ছাত্রীর ইভটিজিং একটি অবিশ্বাসী কাহিনী। কিন্তু বহিস্কার করলে তো এনিয়ে বিনিয়ে করতে হয় তাই এই ধারাটি সংযোগ করা হয়েছে। তাছাড়া এই ধারাটি পাবলিকে মনে দাগ কাটবে তাই এটা একটি মোক্ষম হাতিয়ার। বর্তমানে যিনি উপদেষ্টা তিনি সাবেক প্রধান শিক্ষক যার নামে নারী কেলেঙ্কারির পোস্টারও ছাপিয়েছিল একদল মানুষ তখন এই দানু সকল পোস্টার তুলেছিল। একজন প্রধান শিক্ষকের খারাপ চিকা মারা সহ্য হয়নি দানুর তাই ছাত্রদের সহায়তায় এলাকার সকল পোস্টার ও চিকামারা নষ্ট করেছে দানু। দানু চিন্তা করেছিল এক পরিমল শিক্ষক সমাজকে কলুষিত করেছে। আর যেন কোন পরিমলের আর্বিভাব না হয়। পরিমলের চিন্তা করে দানু প্রধান শিক্ষককের চিকা ও পোস্টার নির্মূল করে। আল্লাহর অশেষ কৃপায় প্রধান শিক্ষক রক্ষা পেলে এবং দানুকেই আগে সন্দেহ করলেন পোস্টারিং ব্যাপারে।