Agriculture

বাংলাদেশে কৃষি শিক্ষা বাধ্যতামুলুক না হলে ভারতের লাভ

Shahzaman Shuvoh No Comments

বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কৃষি শিক্ষা বাধ্যতামুলুক বিষয় ছিল। বর্তমানে ইহা আবশ্যিক বিষয় নয়। নবম দশমে অনেক আগেই ঐচ্ছিক বিষয়ে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। প্রায় ১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশে প্রায় শতকরা আশি ভাগ লোক কৃষি সাথে সম্পৃক্ত। অতচ কৃষি আবশ্যিক বিষয় নয়। এদেশের প্রধান খাবার ভাত ও মাছ যা কৃষিরই পন্য কিন্তু শিক্ষা পলিসিবর্গ ইহাকে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেনি। প্রতিবছর ১৪/১৫ লাখ পরিক্ষার্থী জ়ে. এস. সি পরীক্ষা দেয়। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়বে কিন্তু এই ১৪/১৫ লাখ শিক্ষার্থী কিন্তু স্নাতক পরীক্ষা দিবে না। অধিকাংশই ঝড়ে যাবে। এই ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীর মূল পেশা হবে কৃষি। কৃষির মৌল শিক্ষা না পেয়ে কৃষি কাজ করলে উৎপাদন অবশ্যই কম হবে। আর কৃষির উৎপাদন কম হলে ভারতের কৃষি পন্য আমাদের দেশে আসা আবশ্যিক হয়ে যাবে। এখনই কৃষির উৎপাদন ভাল হবার পরও ভারতের কৃষিপন্য আমাদের দেশে প্রভাব বিস্তার করে। পিয়াজ, রসুন, ডাল, গরু-মহিষসহ আরো অন্যান্য কৃষি পন্য ভারতের দখলে। বাংলাদেশে যখন শিক্ষিত কৃষক একেবারে কমে যাবে তখন ভারত লাভবান হবে। ভারত আমাদের সীমান্তবর্তী দেশ কাজেই ভারতের মুখাপেক্ষী না হবার জন্য কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়ন খুব দরকার। আর কৃষির উন্নয়নের অন্যতম একটি মৌলিক বিষয় হলো মাধ্যমিক শিক্ষায় কৃষি বিষয় আবশ্যিক করা।

ভীতি নয়, চাই প্রয়োজনমত ব্যবহারিক ক্লাশ

Shahzaman Shuvoh No Comments

আমি ১৯৯৫ সালে দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা দিয়ে জানলাম, আমাদের ব্যহারিক ক্লাশ করতে হবে। ব্যবহারি ক্লাশ কী? ব্যবহারিক খাতা (পাকা খাতা) লিখা ও স্যারের স্বাক্ষর নেয়া। এর পর এইচ.এস.সির (বিজ্ঞান) সময় কিছু প্রাক্ট্রিক্যাল করেছি বিষয় ভিত্তিক স্যারের মাধ্যমে এবং নির্বাচনী পরীক্ষার পর ব্যবহারিক খাতা (পাকা খাতা) লিখা ও স্যারের স্বাক্ষর নেয়া। এই হল আমার জীবনের ব্যহারিক ক্লাশের স্মৃতি।

২০১০ সালে শিক্ষকতার যোগদান করলাম এবং এখনো দেখি আগের নিয়মে ব্যবহারিক ক্লাশ নেয়া ও খাতা স্বাক্ষর করা। কিন্তু ক্যারিকুলামে কোথাও নির্বাচনী পরীক্ষার পর ব্যহারিক ক্লাশ নিতে হবে এইরূপ নাই। ক্লাশ রুটিনগুলোতেও ব্যহারিক ক্লাশ এর জন্য আলাদা কোন সময় বরাদ্ধ নাই। কাজেই এটা প্রমাণিত হয় বিষয়ের প্রয়োজনে প্রতিটি ক্লাশই হবে ব্যবহারিক ক্লাশ। এতে আলাদা ব্যহারিক ক্লাশ এর ভীতি তৈরি করার কোন ভিত্তি নাই। ব্যহারিক ক্লাশ কোন ভীতিকর নয় বরঞ্চ খুবই শিক্ষানীয় ও চিত্তাকর্ষ। ব্যহারিক ক্লাশ এর কাচা খাতাটিও যদি সময়মত করি তাহলে ছাত্র/ছাত্রীরা ব্যহারিক ক্লাশ এর পাকা খাতা সহজে করতে পারবে। আরেকটি অপ্রিয় কথা হল ব্যবহারিক খাতা অনেক ছাত্র/ছাত্রীরা নিজের লিখে না, অন্যকে বা শিক্ষক দিয়ে বা সিনিয়রদের দিয়ে ব্যবহারিক খাতা তৈরি করে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের স্বাক্ষর নেয়। বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিক্ষা পোর্টাল শিক্ষক বাতায়ন এর ব্লগ থেকে জানতে পারলাম যে, এস.এস.সি ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত টাকা আদায় করে শিক্ষকরা ভূরিভোজ করে।

প্রবাদে আছে, “I hear –I forget, I see-I remember but I do-I Learn.” বিশেষ করে বিজ্ঞান শেখার ক্ষেত্রে এটা ধ্রুব সত্য। বিজ্ঞান শিখন –শেখানোর ক্ষেত্রে সকল শিক্ষাবিদ learning by doing কে প্রাধান্য দেন। learning by doing বা করে শেখাই ব্যবহারিক শিক্ষা। এই শিক্ষা শিক্ষন প্রক্রিয়ায় একঘেয়েমি দূর করে, শিখন স্থায়ী করে,যৌক্তিক চিন্তার বৃদ্ধি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কাজেই ব্যবহারিক ক্লাশ ভীতিকর না করে বিষয়ের প্রয়োজনে প্রতিটি ক্লাশই করতে হবে ব্যবহারিকভাবে।

মোহাম্মদ শাহজামান শুভ

সহকারি শিক্ষক

বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলি আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়

তিতাস,কুমিল্লা।

Sourch: http://shikshabarta.com/2016/12/05/%E0%A6%AD%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF-…

কৃষক পর্যায়ে ভেজাল রাসায়নিক সার সনাক্তকরণের সহজ উপায়

Shahzaman Shuvoh No Comments

কৃষক পর্যায়ে ভেজাল রাসায়নিক সার সনাক্তকরণের সহজ উপায়
ইউরিয়া সার
ইউরিয়া সার ভেজালের প্রকৃতিঃ ইউরিয়া সারে যে সকল ভেজাল দেয়া যায় তার মধ্যে রয়েছে মিস ব্রান্ডিং অর্থাৎ এক প্রকার সারের প্যাকেটের মধ্যে অন্য এক প্রকার সার পাওয়া যায়। কোন কোন সারে গুড়া চুন ও লবনের মিশ্রন দেখা যায়।

ভেজাল ইউরিয়া সনাক্তকরণ পদ্ধতিঃ একই উৎপাদনকারী কোম্পানীর ইউরিয়া সারের দানাগুলোর আকার সাধারণতঃ সমআকৃতির। পরিবহনজনিত কারণে সামান্য উনিশ-বিশ হতে পারে কিন্তু দশ-বিশ হবে না। যদি অনেক ছোট ও বড় আকারের দানা দেখা যায়, তাহলে সামান্য পরিমাণ ছোট ও বড় দানাগুলোকে আলাদা করে নিন। ছোট দানাগুলো জিহবার আগায় লাগান। লবণ মিশ্রিত থাকলে লবণের স্বাদ পাওয়া যাবে। এক চা চামচ ইউরিয়ার সাথে দুই চা চামচ পানি মেশালে খুব দ্রুত সার গলে দ্রবণ তৈরী করবে। এ দ্রবণে হাত দিলে ঠান্ডা অনুভুত হবে। সারে চুনের গুড়োর মিশ্রণ থাকলে পানি কিছুটা গরম অনুভুত হবে এবং ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত অ্যামোনিয়া উৎপন্ন হবে। একটি চা চামচে সামান্য পরিমাণ (বড় দানা ৪-৫টি) ইউরিয়া নিয়ে তার সাথে সামান্য কলি চুন (পান খাওয়া চুন) মিশিয়ে মোমবাতির আগুনে গরম করলে ঝাঝালো গন্ধযুক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস (আগের রাতে মাংশ, মাছ, ডিম খেয়ে সকালে প্রশ্রাবে যে গন্ধ পাওয়া যায় উৎপন্ন হবে অর্থাৎ সারে যে নাইট্রোজেন আছে তা নিশ্চিত হলো। ছোট দানার ইউরিয়া সারেও এভাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে সেটি ইউরিয়া সার।

টিএসপি সার
টিএসপি সারে ভেজালের প্রকৃতিঃ দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় টিএসপি সারের বস্তায় এসএসপি বা এফএমপি ভর্তি করে বাজারজাত করা হয়। কখনও কখনও জৈব পদার্থের সাথে জিপসাম, ডলোমাইট ও কালো রং মিশিয়ে সেন্ট্রিফিউজ মেশিনের সাহায্যে ভেজাল টিএসপি সার তৈরী হরা হয়।

ভেজাল টিএসপি সনাক্তকরণ পদ্ধতিঃ সঠিক টিএসপি সারে ঘ্রাণ নিলে অম্ল স্বাদযুক্ত (পেটে গ্যাষ্ট্রিক বা গ্যাস হলে মুখ দিয়ে মাঝে মাঝে টকস্বাদের যে গন্ধ পাওয়া যায়) ঝাঁঝালো গন্ধ থাকবে। দুটি বুড়ো আঙ্গুলের নখের মাঝে রেখে চাপ দিলে সহজে ভাঙ্গবে না কিন্তু নকলটি ভেঙ্গে যাবে। টিএসপি সারের বিভিন্ন ভাঙ্গা অংশের রং বিভিন্ন ধরণের হতে পারে। এক চা চামচ টিএসপি সার আধা গ্লাস ঠান্ডা পানিতে মেশালে সার সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হয়ে ডাবের পানির মত পরিষ্কার দ্রবণ তৈরী করবে। ভেজাল থাকলে ঘোলা দ্রবণ তৈরী করবে। অধিক ভেজাল থাকলে নিচে তলানি পড়বে।

ডিএপি সার
ডিএপি সারে ভেজালের প্রকৃতিঃ ডিএপি সারের বস্তায় নিম্ন মানের মিশ্র সার বা টিএসপি সার ভর্তি করে বাজারজাত করতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও মাটি ও রং দিয়ে তৈরী দানাদার দ্রব্যকে ডিএপি সার হিসেবে বাজারজাত করা হয়।

ভেজাল ডিএপি সনাক্তকরণ পদ্ধতিঃ কিছু ডিএপি সার একটি সাদা কাগজের উপর খোলা অবস্থায় এক ঘন্টা রেখে দিলে সারের নমুনাটি ভিজে উঠবে। আবার আধামুঠো ডিএপি সার কিছুক্ষণ হাতের মুঠের মধ্যে ধরে রাখলে হাত ভিজে উঠবে এবং ঘ্রাণ নিলে ইউরিয়া সারের গন্ধ পাওয়া যাবে। হাতের তালুতে সামান্য ডিএপি সার নিয়ে তারমধ্যে সামান্য পান খাওয়া চুন মিশিয়ে বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকলে অ্যামোনিয়ার গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাবে। আধা চামচ ডিএপি সার একটি জলন্ত মোমবাতির শিখায় গরম করতে থাকলে প্রথমে চটচট করে শব্দ হবে, গরম করা অব্যাহত থাকলে সার আস্তে আস্তে গলে বুদবুদ করে ফুটতে থাকবে এবং বুদবুদ করতে করতে শুকিয়ে যাবে, চামচে সামান্য সাদা আবরণ দেখা যাবে। বুদবুদ উঠার সময় ঘ্রাণ নিলে তীব্র অ্যামোনিয়া গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাবে। এক চা চামচ ডিএপি সার একটি গ্লাস নিয়ে তাতে ধীরে ধীরে পানি ঢাললে সারের কিছূ অংশ দ্রবীভূত হয়ে যাবে; বাকী অংশ অদ্রবনীয় থাকবে, পরে দ্রবণে ৩০-৩৫ ফোঁটা গাঁঢ় নাইট্রিক এসিড যোগ করলে অদ্রবীভূত অংশ বাদামী রঙের অর্ধস্বচ্ছ দ্রবণ তৈরী করবে।

এমওপি সার
ভেজাল এমওপি সার সনাক্তকরণ পদ্ধতিঃ এমওপি সার লাল হলেও এর রঙ হাতে লাগে না, ভেজাল সারের রং ভিজা হাতকে রঙিন করতে পারে।

ভেজাল এমওপি সনাক্তকরণ পদ্ধতিঃ এমওপি সারের রং লাল হলেও এ রং হাতে লাগে না। কোন দ্রব্যে রং মেশালে ভেজা হাতে সে রং লাগবে। হাতের তালুতে সামান্য এমওপি সার নিয়ে তার মধ্যে সামান্য পানি দিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকলে আসলে এমওপি সার সম্পূর্ণভাবে গলে যাবে এবং পানি বেশ ঠান্ডা অনুভূত হবে। সার গলে যাওয়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে আসল এমওপি সার আস্তে আস্তে গলে দানাগুলো ছোট হতে থাকলেও লাল রং দেখা যাবে। কিন্তু রং মিশ্রিত কোন জিনিস তার মধ্যে থাকলে প্রথমে লাল রং উঠে যাবে, পরে ছোট কণায় আর লাল রং দেখা যাবে না। বালি, কাঁচের গুড়া মিশ্রিত থাকলে তা মোটেও গলবে না। কাঁচের গুড়া, বালু বা ইটের গুড়া তলানী আকারে জমা হবে। এক চা চামচ এমওপি সার আধা ঠান্ডা পানিতে মিশালে সার সম্পূর্ণ দ্রবীভূত হয়ে পরিষ্কার দ্রবণ তৈরী করবে।

জিপসাম সার
জিপসাম সার ভেজালের প্রকৃতিঃ জিপসাম সারের দাম কম হওয়ায় সাধারণত কোন ভেজাল দেখা যায় না। তবে ওজন বাড়ানোর জন্য পানি মেশানো হয়। কখনও কখনও চুনের গুড়া ও মাটির মিশ্রণ দেখা যায়।

ভেজাল জিপসাম সনাক্তকরণ পদ্ধতিঃ আসল জিপসাম সার সাদাটে পাউডারের মত। ইহা ভেজা হলেই বুঝতে হবে এতে পানি মিশানো হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতায় এটির গায়ে তুলা তুলা ভাব দেখা যায় গায়ে তুলা তুলা ভাব না থাকলে বুজতে হবে পানি মেশানো হয়েছে অথবা ভেজাল সার। এক চা চামচ পরিমাণ জিপসাম সারে ১০-১৫ ফোঁটা পাতলা হাইড্রোক্লোরিক এসিড আস্তে আস্তে মিশালে যদি বুঁদবুঁদ দেখা দেয় তবে বুঝতে হবে নমুনাটি ভেজাল।

বোরণ সার
বোরণ সারে ভেজালের প্রকৃতিঃ বরিক এসিডের তুলনায় বোরক্সে দাম কম হওয়ায় বরিক এসিডের প্যাকেটে বোরক্স ভর্তি করে বিক্রি করা হয়। আবার সলুবর ও বরিক এসিড দেখতে সাদা বিধায় সাদা রং এর অপেক্ষাকৃত কম দামী রাসায়নিক পদার্থ যেমন সোডিয়াম সালফেট বা ক্যালসিয়াম সালফেট (জিপসাম) প্যাকেটজাত করে বরিক এসিড বা সলুবর হিসেবে বাজারজাত করা হয়।

ভেজাল বোরণ সনাক্তকরণ পদ্ধতিঃ বোরণ সার হালকা মিহি পাউডারের মত। আধা গ্লাস পানিতে এক চামচ বরিক এসিড বা সলুবর মিশালে সার সম্পূর্ণ গলে যাবে এবং কোন তলানী পড়বে না। সলুবর ওজনে হালকা বিধায় বরিক এসিড বা বোরাক্সের তুলনায় এক প্যাকেট দ্বিগুন বড় হয়।

দস্তা বা জিংক সার
দস্তা সারে ভেজালের প্রকৃতিঃ দস্তা সারে অনেক ধরনের ভেজাল দেখা যায়। মনোহাইড্রেট জিংক সালফেট লিখিত প্যাকেটে অপেক্ষাকৃত কম দামের হেপ্টাহাইড্রেট জিংক সালফেট ভরে বাজারজাত করা হয়। হেপ্টাহাইড্রেট জিংক সালফেটে জিংক বা দস্তার পরিমাণ কম থাকে। কখনও কখনও ম্যাগনেসিয়াম সালফেট অথবা খাবার লবণ ও জিপসামের মিশ্রণ অথবা খাবার লবণ ও চুনের মিশ্রণকে জিংক সার হিসেবে বাজারে বিক্রয় করা হয়।

ভেজাল দস্তা সনাক্তকরণ পদ্ধতিঃ মনোহাইড্রেট জিংক সালফেট দেখতে দানাদার কিন্তু হেপ্টাহাইড্রেট জিংক সালফেট স্ফটিকার ও আঁকাবাকা। হেপ্টাহাইড্রেট জিংক সার সম্পূর্ণভাবে পানিতে গলে যায় এবং কোন তলানি পড়ে না। কিন্তু মনোহাইড্রেট জিংক সার পানিতে সম্পূর্ণ গলে না এবং দ্রবণ ঘোলাটে হয়। এই দ্রবণে সোডিয়াম কার্বনেট মিশালে কোন বুদবুদ উঠেনা। তবে সোডিয়াম কার্বনেটের তলানী পড়ে এবং দ্রবণ স্বচ্ছ হয়। চিলেটেড জিংকের সার সাদা অথবা হলদেটে পাউডারের মত। ইহা দ্রুত পানিতে গলে গিয়ে স্বচ্ছ দ্রবণ তৈরী করে। যে কোন ধরণের সামান্য দস্তা সার হাতের তালুতে নিয়ে তাতে সামান্য পানি দিয়ে হাতের আঙ্গুল দিয়ে নড়াচড়া করতে থাকলে সার গলতে থাকবে এবং হাতের তালুর পানি আস্তে আস্তে গরম হতে থাকে। পানি যত বেশি গরম হবে বুঝতে হবে ঐ সারের নমুনায় তত বেশি দস্তা আছে অর্থাৎ সারটি ভাল দস্তা সার।

এনপিকেএস মিশ্র সার
এনপিকেএস মিশ্র সার ভেজালের প্রকৃতিঃ এনপিকেএস মিশ্র সারে শুধু উপাদন খরচ কমিয়ে আনার জন্য সঠিক অনুপাতে সরল সারের ভৌত মিশ্রণ ঘটানো হয়। এছাড়া ভেজাল হিসেবে রঙ, মাটি ও ডলোমাইট ব্যবহার করে ভেজাল এনপিকেএস মিশ্র সার তৈরী করা হয়।

ভেজাল এনপিকেএস মিশ্র সার সনাক্তকরণ পদ্ধতিঃ এনপিকেএস মিশ্র সারে বিভিন্ন সরল সার থাকে বিধায় সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমে এর ভেজালের মাত্রা ও প্রকুতি নির্ণয় করা সহজ নয়। তবে মাটি ও ডলোমাইট ব্যবহার করে ভেজাল এনপিকেএস মিশ্র সার তৈরী করা হলে ইহা আঙ্গুলের চাপে সহজেই গুড়া হয়ে যাবে এবং দানার ভিতর ও বাইরের রং ভিন্ন ভিন্ন হবে।

সূত্রঃঅনলাইন

পরীক্ষায় কৃষি শিক্ষা বিষয়ে ভালো করতে হলে করণীয়

Shahzaman Shuvoh No Comments

সুপ্রিয় এস.এস.সি. পরীক্ষার্থীবৃন্দ, শুভেচ্ছা নিও। আশাকরি তোমরা তোমাদের প্রস্তুতির শুরুর পর্যায়ে রয়েছ। সামনে যে কয়েকটি দিন পাওয়া যায় তা সঠিকভাবে কাজে লাগাবে। বর্তমান রুটিন অনুযায়ী প্রিটেষ্ট পরীক্ষার আগেই দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচী এবং ব্যবহারিক পাঠ্যসূচী সম্পূর্ণ করলে তোমাদের কৃষি শিক্ষা পরীক্ষা ভাল হওয়ার কথা। কৃষি শিক্ষা যদিও চতুর্থ বিষয় তথাপি এটি মূল বিষয় থেকে কোনোভাবেই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ বর্তমানে প্রচলিত গ্রেডিং পদ্ধতিতে কোনো বিষয়ই গুরুত্বহীন নয়। বরং ৪র্থ বিষয়ে ভালো করতে পারলে সামগ্রিক ফলাফল ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এসএসসি পরীক্ষার মতো গত বছর থেকে জেএসসি পরীক্ষায়ও ৪র্থ বিষয়ের এ বাড়তি সুবিধাটা পাওয়া যাচ্ছে অর্থাৎ মোট ৫ পয়েন্ট থেকে ২ পয়েন্ট বাদ দিয়ে অতিরিক্ত ৩ পয়েন্ট সর্বমোট পয়েন্টের সঙ্গে যোগ হবে এবং সর্বমোট পয়েন্টকে মোট বিষয় দিয়ে ভাগ করার ক্ষেত্রে কৃষি শিক্ষা অর্থাৎ ৪র্থ বিষয়, বিষয় হিসেবে গণ্য হবে না। আবার এ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলেও ফলাফলে কোনো প্রভাব না পড়লেও এ বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করলে ফেল হিসেবে গণ্য হবে।

কৃষি শিক্ষা নবম-দশম শ্রেণির জন্য ব্যবহারিক বিষয়সহ মোট পূর্ণমান ১০০-এর মধ্যে সৃজনশীলে ৫০ এবং নৈর্ব্যক্তিকে ২৫ নম্বর। সৃজনশীল অংশে মোট ৮টি প্রশ্ন থাকবে এবং যে কোনো ৫টি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ১০। প্রতিটি প্রশ্নের মধ্যে অন্যসব সৃজনশীল বিষয়ের মতো চারটি ভাগ থাকবে। ক. জ্ঞানমূলক মান-১, খ. অনুধাবনমূলক মান-২, গ. প্রয়োগমূলক মান-৩ এবং ঘ. উচ্চতর দক্ষতামূলক মান-৪। বহুনির্বাচনী অংশে ২৫টি প্রশ্ন থাকবে, প্রতিটি প্রশ্নেরই উত্তর করতে হবে এবং প্রত্যেক প্রশ্নের মান হবে ১। সময় মোট ৩ ঘণ্টা, সৃজনশীল অংশের জন্য ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট এবং বহুনির্বাচনী অংশের জন্য ২৫ মিনিট। কৃষি শিক্ষার বিষয় কোড-১৩৪।

এ বিষয়টিতে মোট অধ্যায় রয়েছে সাতটি। ১ম অধ্যায়- কৃষি প্রযুক্তি, ২য় অধ্যায়-কৃষি উপকরণ, ৩য় অধ্যায়-কৃষি উপকরণ, ৪র্থ অধ্যায়-কৃষি ও জলবায়ু, ৫ম অধ্যায়-কৃষিজ উৎপাদন, ৬ষ্ঠ অধ্যায়-বনায়ন, ৬ষ্ট অধ্যা-কৃষি সমবায়, ৭ম অধ্যায়-পারিবারিক খামার। যেহেতু ৮টি সৃজনশীল প্রশ্ন থাকবে ফলে প্রতিটি অধ্যায় থেকেই প্রশ্ন পাওয়া যাবে তবে ১ম ও ২য়, ৪র্থ ও ৬ষ্ঠ অধ্যায় থেকে একাধিক প্রশ্ন পাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। আর নৈর্ব্যক্তিক উত্তরের জন্য তো সব অধ্যায় অবশ্যই ভালোভাবে পড়তে হবে। উদ্দীপকগুলো মনোযোগ সহকারে পড়ে, ভালোভাবে বুঝে সঠিকভাবে খাতায় উপস্থাপন করতে পারলে অবশ্যই পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব।
এক্ষেত্রে খাতায় যতটা সম্ভব ঘষামাজা, কাটাছেঁড়া কম করবে এবং হাতের লেখাগুলো সুন্দর ও স্পষ্ট করার চেষ্টা করবে। প্রশ্ন হাতে পেয়ে তা প্রথমে ভালোভাবে পড়ে নিবে, প্রশ্ন নংগুলো সঠিকভাবে খাতায় লিখবে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে পুরো খাতা ভালোভাবে দেখে নিবে। আল্লাহ তোমাদের সহায় হোক।
ব্যবহারিক কাজ তথা বিভিন্ন পরীক্ষা ও অনুসন্ধানসমূহকে পাঠ্যপুস্তকে তত্ত্বীয় বিষয়বস্তুর সঙ্গে সংগতি রেখে প্রতিটি অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে;
(১) প্রতিটি অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত ব্যবহারিক কাজটি সে সংশ্লিষ্ট তত্ত্বীয় বিষয়বস্তু পাঠদানের সঙ্গেই সম্পন্ন করতে হবে।
(২) ব্যবহারিক কাজ সমাপ্ত করে খাতা/শিটে প্রতিবেদন তৈরি করে পরবর্তী সপ্তাহে শিক্ষকের কাছে অবশ্যই জমা দিতে হবে এবং তা শিক্ষার্থীদের নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।
(৩) এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় এই খাতা/শিটসমূহ অবশ্যই উপস্থাপন করতে হবে।
(৪) ব্যবহারিক খাতা/শিটের জন্য নম্বর বরাদ্দ নেই।
(৫) এসএসসি পরীক্ষায় নিম্নে প্রদত্ত বিষয়ভিত্তিক ব্যবহারিক পরীক্ষাসমূহ মূল্যায়ন করতে হবে।
(৬) এসএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীকে বিষয়ভিত্তিক ১টি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
(৭) লটারির সাহায্যে নির্বাচিত পরীক্ষাটি শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার দিন প্রদর্শন করতে হবে।
(৮) শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য পরীক্ষা/অনুসন্ধানসমূহ শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
সহকারি শিক্ষক (কৃষি)
বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলি আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়
তিতাস, কুমিল্লা

Advertisement Area

This is area for advertisement.

Subscribe

Get new posts by email:

রাঙ্গামাটির ঝুলন্ত ব্রিজ থেকে….

Site Statistics

  • Users online: 0 
  • Visitors today : 8
  • Page views today : 16
  • Total visitors : 5,009
  • Total page view: 7,972