উইকিপিডিয়ানুসারে, মাজার একটি আরবী শব্দ, যা এখন শুধু বাংলাতেই ব্যবহৃত হয়। শব্দটি ফারসী দরগাহ শব্দের প্রতিশব্দ। এর ধাতুগত অর্থ ‘যিয়ারতের স্থান’। মাজার বলতে সাধারণত আওলিয়া-দরবেশগণের সমাধিস্থলকে বোঝায়।

পরিসংখ্যান ব্যুরো হিসাব মতে, বাংলাদেশে মোট মাজারের সংখ্যা ২০হাজার ৭০টি। এদের মধ্যে ঢাকা জেলায় আছে ১৫৮৮টি। তবে সবচেয়ে বেশি চট্রগ্রামে-২৫৮৮টি। সিলেটে হযরত শাহ জালালের ও হযরত শাহ পরাণের মাজার মাজার, রাজশাহীর শাহ মখদুম মাজার, ঢাকায় শাহ আলী বাগদাদীর মাজার, খুলনায় খানজাহান আলীর মাজার ,মজ্জুব হযরত সিরাজুল ইসলাম কোরাইশী পাগলা বাবার মাজার শরীফ সিরাজ নগর,ভৈরব,কিশোরগঞ্জ, মাজনুন হযরত সৈয়দ সোহেল মুন্সী, মাজার শরীফ সিরাজ নগর,ভৈরব,কিশোরগঞ্জ ইত্যাদি। চট্টগ্রাম মাজারের শহর হিসেবে খ্যাত, কারণ সেখানে বারো-আওলিয়ার মাজার আছে। চট্টগ্রাম এ আরো আছে হযরত শাহ্ ছুফি মঈনুদ্দীন শাহ্ (রহ:) এর মাজার,মূফতি মুযাফ্ফর আহমদ (রহ.) এর মাজার,মহিলা ওলি শামীম জাহানের মাজার ,কালু শাহ রহ.মায়ার, হযরত শাহ সূফী নূর মোহাম্মাদ নিজামপুরী গাজীয়ে বালাকোট (রহ,) , হযরত শাহ আমানত (রহ.) এর মাজার। মহাস্থানগড় এ হযরত শাহ সুলতান ইব্রাহীম বলখী মাহী সাওয়ার (রহ.) এর মাজার। চাঁপাইনবাবগন্জ্ঞে হযরত শাহ নেয়ামতউল্লাহ (রহ.) এর মাজার। কুষ্টিয়া তে হযরত লালন শাহ (রহ.) এর মাজার। ঝিনাইদহে সুলতানুল আব্দাল হযরত শাহ সূফী প্রোফেসর আব্বাস উদ্দীন (রহ.) এর মাজার, পাগলা কানাই। যশোরে হযরত শাহ্ সূফী খবিরউদ্দীন (রহ), হযরত শাহ সূফী আব্দুল করিম (রহ.), হযরত শাহ সূফী চেরাগ আলী (রহ.), হযরত শাহ সূফী বোরহানউদ্দিন (রহ.), হযরত গরীব শাহ (রহ.) এর মাজার । বরিশালে হযরত শাহ সূফী নেছারুদ্দীন (রহ.) এর মাজার। ফেণী তে হযরত শাহ সূফী ছদরুদ্দীন (রহ.) এর মাজার। পঞ্চগড়ে শহীদ নূরুল ইসলাম ফারুকী (রহ.) এর মাজার । শেরেবাংলা নগরে শহীদ

জিয়াউর রহমান (রহ.) এর মাজার।

 

মাজারগুলো টাকার খনি তা জানা যায়, বাংলাদেশের পত্র-পত্রিকা থেকে। প্রায়ই মাজারের টাকা চুরির খবর পত্রিকায় আসে। টাকার জন্য খাদেমদের ঝগড়া বিবাদও হয়। মোতাওয়াল্লি বা সভাপতি নিয়েও হয় তুমুল প্রতিযোগিতা। মাজারে ঝগড়া বিবাদ, সভাপতির প্রতিযোগিতা প্রভৃতির মুলেই রয়েছে মাজারের অজস্র টাকা। শাহ আলির মাজারের সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়া সংসদ নির্বাচনের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

২৭-০২-২০১২  দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদন রিপোর্টে জানা যায়, চট্টগ্রাম শহর থেকে ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে আনোয়ারা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম তালসরা। এ গ্রামের ঠিক মাঝখানে পীর আহমদ ছফার বিশাল দরবার শরিফ। চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানা এলাকার এই দরবার শরিফ থেকে দুই কোটি টাকা লুট করেছে র‌্যাবের একটি দল।  এইরূপ একটি মাজার থেকে যদি দুইকোটি টাকা চুরি হয় তাহলে এর চেয়ে বিখ্যাত মাজারগুলোতে কি পরিমান টাকা থাকতে পারে তা অনুমান করা যায়!

২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, দৈনিক নয়াদিগন্তের রিপোর্টে জানা যায়, “হাইকোর্ট মাজারের (শাহ খাজা শরফ উদ্দিন চিশতি র. আ. ওরফে বাবা ওলি বাংলা) ১১টি সিন্দুকের তালা ভেঙে দান করা কয়েক লাখ টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার রাত ১২টায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ বলছে, এক মুখোশধারী গ্রিল কেটে সিন্দুক ভেঙে টাকা নিয়ে গেছে। তবে কত টাকা ছিল সেটি জানা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ৮-৯ লাখ টাকা হবে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি মাজার কর্তৃপক্ষের কেউ”।

 

মহাস্থানগড় মাজার: দানবাক্সের টাকা গুনতে লাগবে দু’দিন। ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, সমকালের রিপোর্ট।

 

মহাজাতক এর হাজারো প্রশ্নের জবাব ২ শিক্ষা-ক্যারিয়ার-সাফল্য বই থেকে জানা যায়, শাহ আলীর মাজারে বছরে আয় তিন কোটি ১২ লক্ষ টাকা, বার আউলিয়ার মাজারে বছরে আয় ৪০ লক্ষ টাকা, হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে আয় ১৩ কোটি টাকা, খান জাহান আলীর মাজারে আয় প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা, হযরত আমানত শাহ (রহ.) মাজারে আয় প্রায় তিন কোটি টাকা, হযরত গরীব উল্লাহ শাহ মাজারে আয় এক কোটি টাকা, বিড়ালদহ হযরত শাহ সৈয়দ করম আলী (রহ.) মাজারে আয় বছরে ৫০ লক্ষ টাকা।

 

১৪ আগস্ট, ২০০৭ সালে দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন যার শিরোনাম ছিল ‘রাজধানীর দানবাক্সে বছরে জমা হয় নয় কোটি টাকা’। প্রতিবাদনে ঢাকার প্রতি ওয়ার্ডের কয়টি দানবক্স, কোন কোন মাজার বা খানকার নামে দানবক্স তা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া আছে মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখান প্রভৃতির দানবক্স।

 

উপরের বর্ণনায় মাজারগুলোর শুধু আয়ের উৎস বা আয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মাজারগুলোর আয়ের পরিমাণে কিছু ব্যয়ও আছে যেমনঃ উরশে আপ্যায়ন, তাবারুক বিতরণ, বিশেষ দিন উৎযাপন, মাজার সংলগ্ন মসজিদ, এতিমখান, মাদ্রাসা ইত্যাদি। মাজারের ব্যয়ের পরেও যে টাকা থাকে তা ইচ্ছে করলে খোলতে পারে ত্রাণের ভান্ডার।

 

 

 

1 Comment

Shahzaman ShuvohApril 17, 2020 at 4:58 pm

চমৎকার লেখনি । গবেষণালব্ধ প্রতিবেদন। মহান প্রভু আপনাকে উত্তম জাযা দান করুন। আমিন।