১. আজ ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার)। বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি তথ্য মতে, আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫৭২জন। যাদের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে ৬০ জন। গতকাল ১৫ এপ্রিল (বুধবার) পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৩১জন। মৃত্যুবরণ করেছিল ৫০ জন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা যত বাড়ানো হচ্ছে, আক্রান্তের সংখ্যাও তত বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা।

২. আজ ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত কুমিল্লার জেলা সিভিল সার্জনের অফিস তথ্য মতে, করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০জন। যাদের মধ্যে তিতাস-৮, দাউদকান্দি-৬, বুড়িচং-৪, চান্দিনা-৪, দেবিদ্বার-২, ব্রাহ্মণপাড়া-১, সদর দক্ষিণ-১, বরুড়া-১, চৌদ্দগ্রাম-১, লাকসাম-১ ও হোমনা-১। কুমিল্লার ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১১টি উপজেলায় এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

এবার আসুন- তিতাস প্রসঙ্গে : আজকে পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৫৩টি। এদের মধ্যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে ২৯টি। যার মধ্যে ৮টি পজেটিভ (বিরামকান্দি-৩, মৌটুপী-৩, গাজীপুর-১, ফরিদপুর-১)। ২১টি রিপোর্ট নেগেটিভ। ৫৩টি নমুনার মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী ১৭ এপ্রিল ১২টি ও ১৮ এপ্রিল ১২টি রিপোর্ট পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। (এখানে উল্লেখ্য একজন ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হলে পরবর্তীতে ২ থেকে ৪টি পরীক্ষার মাধ্যমে তার সর্বশেষ অবস্থা নির্ণয় করা হয়; সে ক্ষেত্রে তিতাসে আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তি জালাল উদ্দিনের ইতিমধ্যে ১টি রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে)।

(লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো- করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশঃ বাড়ছে। দেশের পরিস্থিতি থেকে শুরু করে তিতাসের পরিস্থিতি একই সূত্রে গাঁথা)।

৩. বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিটি মানুষকে তার অবস্থান বাসায় নিশ্চিত করার জন্য বলা হচ্ছে। এই কঠোর নির্দেশনার মধ্যেও মাঠ পর্যায়ে অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিগণ তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। অথচ ‘রুদ্ধ বাস্তবতা হলো- তাঁদেরও জীবনের প্রতি মায়া আছে; তাঁরাও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি দায়বদ্ধ। প্রতিটি বাবা’ই চায় বেলা শেষে তার সন্তানকে কোলে নিয়ে একটু আদর করতে।

সব কিছুর উর্ধ্বে উঠে যে মানুষটি দিন-রাত শুধু তিতাসের করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি হলেন উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকার। তাঁর এই কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ ফকির, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ ও উপজেলা আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের (কিছু কিছু) নেতৃবৃন্দ। সকলকে ঘরে রেখে ঘরে ঘরে খাদ্য পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে খাদ্য সংগ্রহ করা পর্যন্ত এমন পরিস্থিতিতে একটা মানুষকে কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয়; তার উপলব্ধি কি আমাদের মাঝে তৈরী হয়েছে?

৪. উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. রাশেদা আক্তার। নারী ইউএনও প্রতীকি। অনেক সুভাগ্যবান তিতাসবাসী। উনারও পরিবার আছে। কাজ করে যাচ্ছেন- ৯জন ট্যাগ অফিসার ও অসংখ্য কর্মচারী নিয়ে। ছুটে যাচ্ছেন জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি। খোঁজ রাখছেন তিতাসের একটি ঘরের ভেতর থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের অধিদপ্তর পর্যন্ত। কখনো কি ভেবে দেখেছি, কাদের জন্য তাঁদের এই নিরলস প্রচেষ্টা?

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মো. সরফরাজ হোসেন খান ও তাঁর দল। নিজেদের মৃত্যুর কথা না ভেবে চলে যাচ্ছেন করোনা আক্রান্ত রোগীর দ্বারপ্রান্তে। দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন করোনা মোকাবেলায়। আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি; একজন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কতটা তাঁদের ত্যাগ-তীতিক্ষা?

তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ আহসানুল ইসলাম। তাঁর পুলিশ বাহিনী। কেন জীবনে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন হাটে-বাজারে, রাস্তা-ঘাটে? কখনোও কি আমরা সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজতে চেষ্টা করেছি?

৫. আপনার কাছে অনেকগুলো প্রশ্ন রেখেই লেখাটি শেষ করছি- (কারণ- মানুষের মধ্যে তার নিজের বিবেক হলো সর্বোচ্চ আদালত) এই সব মানুষ নিজের জীবন ও সংসারের কথা না ভেবে আমাদের পাশে দিন-রাত ছুটে চলছে “শুধু আমাদের ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য’ ‘অসহায় মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দেওয়ার জন্য’। তার একটাই কারণ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে তিতাসকে সুরক্ষিত রাখার জন্য। সর্বশেষ আপনাদের কাছে একটা প্রশ্ন রেখেই গেলাম- জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রশাসনের যত কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে “প্রতিদান হিসেবে আমরা তাদের কি দিচ্ছি? নাকি নিজেকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করছি?”

* উপরের বর্ণিত ব্যক্তিবর্গ ছাড়া আরো অনেক ব্যক্তিবর্গ এমন মহামারী সংকটে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁদের প্রতিও আমার কৃতজ্ঞতা আছে। শুধু বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে উপরের ব্যক্তিবর্গকে প্রসঙ্গক্রমে উপস্থাপন করা হলো। *

তিতাসবাসীর মঙ্গল ও সার্বিক কল্যাণ কামনায়-
নাজমুল করিম ফারুক
প্রতিনিধি- দৈনিক ইত্তেফাক,
দৈনিক রুপসী বাংলা ও দ্যা ডেলি সান

Comments are closed.