আমার স্কুল জীবনের যে স্মৃতি কিছু সুখকর ছিল, আবার কিছু মনে হলে নিজেকে অপরাধী মনে হয়; নায়কও ভাবতে পারি মাঝে মাঝে। আমার প্রথম প্রাইমারি স্কুল ছিল পশ্চিম মজিদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর অবস্থান আমাদের বাড়ী হতে এক কিলোমিটারের মতো হবে। প্রত্যেকদিন স্কুলে যাইতাম আর আসার পথে চলত নানান রকমের দুষ্টমী; কারো আমগাছে মাটির চাকার ডিল; কারো বড়ই গাছে মাটির ডিল, কাউকে পায়ে ল্যাংটি মেরে ফেলে দেয়া অথবা দৌড়ে কে আগে আসতে পারে ইত্যাদি ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। বর্ষাকালে মাঝে মধ্যে নৌকা খেলানো বা নৌকাবাইচ তো ছিলই। একজন বয়স্ক শিক্ষক আমাদেরকে ছন্দের তালে তালে শতকিয়া পড়াতেন। ছড়া পড়াতেন। খুব ভাল লাগতো। উনাকে হাইজইন মুন্সী নামে সবায় চিনতো। ক্লাশ টু এ পড়ার সময় অংক বাড়ির কাজ ভুল করেছিলাম বিদায় একদিন ভীষম ব্যাত্রাঘাত খেয়েছিলাম। ঐই স্যারের নাম জসীম উদ্দিন। এই সময়গুলোতে দাড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, চোরা রাজা গোল্লা, ডাংগুটি, বউছি, কানামাছি, জোরখেলা (কুস্তি/বলিখেলা) এবং ফুটবল খেলা খেলেছি। জোসনারাতে বয়স্ক লোকের নিকট পুথি শোনতাম বা কিচ্ছা (গল্প) শোনতাম। এই স্কুলের বন্ধুদের নাম আজো মনে আছে; আনিছ, শামীম,প্রদীপ, রতন,ফরহাদ, হেলাল, জাহাঙ্গীর, শান্তনা, রাজিয়া,রিতা আশ্চায্য, সুবেদ চদ্র, ধরণী চদ্র দাস, হরিমন চন্দ্র দাস, ক্ষীতিষ চন্দ্র দাস, শ্যামল চন্দ্র দাস, নারগিছ প্রভৃতি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জীবনের দ্বিতীয় অংশটি আমার কেটেছে নিউ ঝাউতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আব্বা চট্রগ্রামে থাকতো, তাইতো নিউ ঝাউতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। আমাদের বাসা ছিল আমবাগানে। আমবাগান থেকে নিউ ঝাউতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দূরত্ব কম ছিল না। বাস্তহারার আবাসিক এলাকার একটি রণি নামের ছেলেও আমার সাথে পড়তো। প্রায় রণি আর আমি একসাথে স্কুলে যাইতাম এবং বাসায় আসতাম। নিউ ঝাউতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছিলেন রত্নাসেন। উনি দয়ালু ও রাগী ছিলেন। একদিন আমাকে বাদ দিয়ে সবাইকে পিটাইছেন। রাশেদ, মহিউদ্দিন, উজ্জাল নামে আমার বন্ধু ছিল। মেয়ে বন্ধুদের নাম মনে নেই। রাশেদ ভাল গান গাইতো। এই স্কুলে দারিয়াবান্ধা খেলায় আমি খুব ভাল করতাম।

Comments are closed.