মোছাঃ জেসমিন নাহার এর জন্ম মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন, সদর উপজেলা,লালমনিরহাট। বাড়ির পাশ্বের নিজপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষা প্রাথমিক সম্পন্ন করে। লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি ও লালমনিরহাট সরকারি কলেজ থেকে এইচ এস সি সম্পন্ন করে। এই সময় তাকে প্রায় প্রতিদিন ১০/১২ মাইল পথ পায়ে হেটে মাধ্যমিক স্তর শেষ করতে হয়েছে। এসএসসি’র পর থেকেই বাড়ির বড় মেয়ে বলে বিয়ের পায়তারা চলছিল। কিন্তু কপালের লিখন শেষ পর্যন্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা বি এ বি এড, এম এ এম এড । ১৯৯৪ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করে।

 মোছাঃ জেসমিন নাহার তার নিজ চেষ্টায় ১৯৯৯ সালে এম এস ওয়ার্ড, এক্সেল কোর্স সম্পন্ন করে বগুড়া নট্রামস থেকে একটি সার্টিফিকেট পায়। সেখানে অনেকের সাথে শেয়ার করে অভিজ্ঞতা অর্জন করে। নতুন কিছু শেখার ও জানার ইচ্ছা ছিল তার। বাড়িতে কম্পিউটার ছিল না সব কিছু স্মৃতির অতলে তলিয়ে যেতে লাগল। ২০১১ সালে সরকারিভাবে বিদ্যালয়ে একটি ল্যাপটপ এলে মনে হল এই বুঝি জানে পানি এল। কিন্তু না ঐটি ছিল হিরের চেয়ে দামি থাকে সিন্দুকে। নিসেধাজ্ঞা জারি হল  কম্পিউটার শিক্ষক ছাড়া কেউ ধরবেন না। মাঝে মাঝে চুরি করে ধরতাম। স্বপ্ন তখনও ছিল না। নতুন কিছু শেখার ও জানার ইচ্ছায়  কম্পিউটার এর প্রতি আকৃষ্ট হত মোছাঃ জেসমিন নাহার

২০১৪ সাল ২৪ মার্চ- ৬ এপ্রিল রংপুর টিটিসিতে আইসিটি ট্রেনিং সম্পন্ন করে, অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ হামিদুল হক স্যারের পূর্ণ সহোযোগীতায়। ২০১৪ সালের শেষের দিকে একটি ডেস্কটপ ক্রয় করে। শুরু হয় অনুশীলন। ২০১৫ সালের ২১-২৬ নভেম্বর ৫ দিনের আইসিটি ট্রেনিং হয় লালমনিরহাট সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে । এই ট্রেনিং সেশন থেকে ১ম কনটেন্ট  আপলোড দেয়া।  স্বপ্ন তখনও ছিল না। ২০১৬ সাল ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর নায়েমে ৪৫তম ট্রেনিং অন আইসিটি  কোর্স সম্পন্ন করে প্রফেসর মোঃ হামিদুল হক, মহাপরিচালক নায়েম মহোদয়ের পূর্ণ সহোযোগীতায়। নতুন কিছু শেখার ও জানার ইচ্ছা ছিল শুধু। ২০১৭ সাল মার্চে  জেলা শিক্ষা অফিসার আবু আশরাফ নূর স্যারের উদ্দোগে অফিসের সেমিনার কক্ষে ১৪ দিনের একটি কোর্স সম্পন্ন করে। এখানে ট্রেইনার ছিলেন জনাব রায়হান কিবরিয়া রনি,সহকারী প্রোগ্রামার জেলা শিক্ষা অফিস লালমনিরহাট মহোদয়। স্যারের আন্তরিকতাপূর্ণ সহযোগীতায় মানসন্মত কন্টেন্ট তৈরির জোড় প্রচেষ্টা শুরু হয়। স্যারের উৎসাহ উদ্দিপনা স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে।  ২০১৭ সাল এর ৬ জুন সেরা কন্টেন্ট প্রতিযোগীতায় জেলা পর্যায়ে উত্তির্ণ (১7তম) হয়ে আক্টোবর ২০১৭ বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে। এখানে এটু আই প্রতিনিধি জনাব কবির  হোসাইন সারের উৎসাহ উদ্দিপনা স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে। ২০১৮ সাল নভেম্বরে জেলা অ্যাম্বাসেডর এর ফর্ম পূরণ করে । ২০১৮ এর ১৭ ফেব্রুয়ারি  a2i   কর্তৃক  ICT4E জেলা অ্যাম্বাসেডর লিস্টে নাম আসে। ২০১8 সাল এর ৬ জুন সেরা কন্টেন্ট প্রতিযোগীতায় জেলা পর্যায়ে উত্তির্ণ (১ম) হয়ে আক্টোবর ২০১৮ বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে। ৭  জুলাই থেকে ১৩ জুলাই ২০১৮খ্রিঃ সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা জেসমিন নাহার।  ২০১৯ থেকে প্রাণের বাতায়ন সেরা উদ্ভাবক প্রতিযোগীতার সুযোগ সৃষ্টি করে । জেসমিন নাহার তার শ্রেণি কার্যক্রমের ভিডিওগুলোর লিংক আপলোড দিতে থাকে শিক্ষক বাতায়নে। ডিসেম্বর ২০১৯ বিজয়ের মাসে মহান রাব্বুল আল আমিন  এর কৃপায় ও প্রিয় বাতায়নের সকল স্যারদের ভালবাসাপূর্ণ সহযোগীতায় জেসমিন নাহারের আরো একটি বিজয় অর্জিত হলো সেরা উদ্ভাবক। ১৫ডিসেম্বর থেকে ৩০ডিসেম্বর ২০১৯খ্রিঃ সেরা উদ্ভাবক জেসমিন নাহার

 

Comments are closed.