আমার সামনে পীছনে নিরাপত্তাকর্মী। আমি যাচ্ছি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রির কার্যালয়ে। নানান রকম পরীক্ষা নিরিক্ষার পর আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো একটি নীলাভ কক্ষে। একটি কক্ষে আমাকে বসিয়ে দিয়ে নিরাপত্তাকর্মীগণ চলে গেলেন। আমার কাছে বিশ্বাস হচ্ছে না আমি প্রধানমন্ত্রির কার্যালয়ে। তাও আবার মুজিববর্ষ নিয়ে আলাপ করতে। দেশে শিক্ষক নেতার অভাব নেই।

তারমধ্যে বিখ্যাত কয়েকজন হলেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সভাপতি অধ্যক্ষ এমএ আউয়াল সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক বিলকিস জামান৷ এই নামে অপর সংগঠনের সভাপতি বজলুর রহমান মিয়া ও কাওছার আলী শেখ। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি(আবুবকর- কাশেম), বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি(আউয়াল-জলিল) এই নামে আরেক সংগঠনের নেতা- মো. কামরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক একেএম ওবায়দুল্লাহ। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (লক্ষ্মীবাজার) সভাপতি ইয়াদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি নামে আরেকটি গ্রুপের সভাপতি আবুল বাসার হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম রনি। তারা দু’জনের পরিবর্তে বিভক্ত হয়ে একই নামে পৃথক সংগঠন গড়ে নিজেরা নিজ নিজ গ্রুপের সভাপতি হন। কারিগরি শিক্ষকদের বড় দুটি সংগঠন এর একটির নেতা অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু৷ অপরটির নেতৃত্বে আছেন অধ্যক্ষ এমএ সাত্তার। সাজুর নেতৃত্বাধীন সংগঠনের নাম বেসরকারি কারিগরি শিক্ষক সমিতি। এর নির্বাহী সভাপতি অধ্যক্ষ নাসির উদ্দিন বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ একেএম মোকসেদুর রহমান। কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতি সভাপতি অধ্যক্ষ এমএ সাত্তার ও অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মানিক সাধারণ সম্পাদক৷ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়ার অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া ও অধ্যক্ষ আসাদুল হকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস), নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের নেতৃত্বে গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার ও অধ্যক্ষ বিণয় ভূষণ রায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারি ফোরাম সভাপতি মো. সাইদুল হাসান সেলিম ও মহসচিব মো. আ. খালেক৷ জমিয়াতুল মুদাচ্ছেরিন নামে আছে ০৩টি সংগঠন৷ একটার সভাপতি অধ্যক্ষ জালাল৷ বাকিগুলো অজানা৷ শুধু কর্মচারি ফোরাম নামে আছে একটি৷ সভাপতি এম আরজু৷ স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ ৷ সভাপতি শাহজাহান আলম সাজু৷ মুলত এটি আসল সংগঠন না৷ কারিগরি শিক্ষক সমিতি৷ সভাপতি মো. আলী চৌধুরী৷ আরো আছে- অধ্যক্ষ সমিতি উপাধ্যক্ষ সমিতি প্রফেসরর্স সমিতি প্রধান শিক্ষক সমিতি সহকারি প্রধান শিক্ষক সমিতি সহকারি শিক্ষক সমিতি৷

 

আমি কোন নেতা নই। নামমাত্র শিক্ষক। ছাত্রদের স্বপ্ন দেখাই। গত কয়েকদিন আগে শুরু করলাম মুজিববর্ষ গণনা। ছাত্র/ছাত্রীদের নিয়ে ন্যাশনাল হিরূ প্রজেক্ট নিয়ে স্বপ্ন দেখাই দেশ গড়ার। এছাড়া আমার আর কোন কাজ নেই।

প্রধানমন্ত্রি আমাকে ডাকবেন, আমার বিশ্বাস হয় না। হয়তো আমি কোন ফাঁদে পড়েছি বলে মনে হয়। এই কক্ষটিও নীলাভ বর্ণের; অফিস, বাসা বা ড্রইনিং রূম বলে মনে হয় না। মনের ভিতর নানান প্রশ্ন জাগছে। প্রধানমন্ত্রির অফিস না হলে এত চেকিং কেন করল? ইত্যাদি ভাবছি আর ঘামছি; এমন সময় নীলাভ খরেরী এবং সাদা পাইড় কাপড় পড়ে প্রধানমন্ত্রি কক্ষে প্রবেশ করলেন। আমি সাথে সাথে দাঁড়িয়ে সালাম দেবার আগেই আমাকে সালাম দিলেন। আমি ভয়ে ভয়ে সালামের জাবাব দিলাম।

উনি একটি সোফায় বসার পর আমি একটু দূরে বসলাম। আমাকে বলল, কিরে তুই নাকি ভাল শিক্ষক হয়েছিস? আমি আমতা আমতা করছি আর ভাবছি; উনি আমাকে তুই করে বলবে কেন? আমি একজন শিক্ষক আর উনি দেশের প্রধানমন্ত্রি। ভাবতে ভাবতে আমার মনে হলো আমি একমাত্র মাকেই তুই করে বলতাম। এই পৃথিবী মা ছাড়া আর কারো সাথে তুই সম্পর্ক নাই। তারমানে উনি আমার মা। উনার কাপড়টাও তো মায়ের কাপড়ের মত। আমি লা জবাব হয়ে গেলাম। চুপ করে বসে রইলাম।

এবার আমি কক্ষের চারপাশে লক্ষ্য করলাম। এটা অফিস নয়। আমি চারপাশে লক্ষ্য করে ভাবছি; আমি মনে হয় স্বপ্নই দেখছি। উনি বললেন, আপনি শিক্ষক হলেও আমার ছেলে তুল্য, আমি দেশের প্রধানমন্ত্রি তাই আমি আপনাদের মায়ের মত। আমি আমতা করে শুধু জি বললাম।

প্রধানমন্ত্রিঃ মুজিববর্ষে আপনারা কী চান?

আমিঃ জাতীয়করণ।

প্রধানমন্ত্রিঃ জাতীয়করণ হলে আপনার খুশী? মান সম্মত শিক্ষা কি সফলকাম হব?

আমিঃ এটা নির্ভর করবে দেশের আমলা এবং শিক্ষকদের আগ্রহের উপর।

প্রধানমন্ত্রিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করে দেখালাম; মানসম্মত শিক্ষা হচ্ছে না।

আমিঃ শিক্ষক উন্নায়ন হলে শিক্ষা উন্নয়ন হবে। কাজে একটু অপেক্ষা করতে হবে। আমাদের মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যায়ক্রমিক শর্ত সাপেক্ষা জাতীয়করণ করুন; যারা বড় প্রতিষ্ঠান বা জাতীয়করণ চায় না তাদেরকে আগে জাতীয়করণ করে, সরকারি কোষাগার ঠিক করুন। প্রয়োজনে বড় প্রতিঠানের বিভাগে বিভক্ত করুন।

প্রধানমন্ত্রিঃ আমি তো পর্যায়ক্রমে  জাতীয়করণ করছি।

আমিঃ এটা খুব শ্লো গতি; মুজিববর্ষের উপহার আরো বড় হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রিঃ গত দশ বছরে বোর্ড পারসেন্টস পাশ এবং গত দশ বছরে সর্বনিম্ন ৪০০ জন শিক্ষার্থী পাশ করছে; এইরুপ সকল মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ করি?

আমিঃ মন্ধ হয় না? তবে শিক্ষক এবং আমলাদের সাথে আলাপ করে এই মুজিববর্ষের সেরা উপহারটি দিলে আমার মনে হয় ভাল হয়।

প্রধানমন্ত্রিঃ ঠিক আছে। আপনি জাতীয়করণ চান এই মর্মে একটি লিখিত দেন।

কথাবার্তার এই মুহুর্তে প্রধানমন্ত্রির সম্ভবত পিএস আসল। হঠাৎ আমার স্ত্রীরির আওয়াজ শোনলাম। আমার অর্ধাঙ্গিনীকে দেখে বুঝতে পারলাম আমি স্বপ্ন দেখেছি। আমি তো স্বপ্নেই স্বপ্ন দেখেছি, তাই সাবিনাকে জিজ্ঞাসা করলাম এত সকালে তোমার গলার আওয়াজ কেন? সাবিনা জানাল আজ জামি ও সাবার স্কুলে স্টাডিটুর তাই সকালে ঘুম থেকে উঠেছে। জামি ও সাবার সাথে সাবিনাও যাবে। সকালে যাবে তাই প্রস্তুত হবার জন্য ফজর নামাজের আগেই ঘুম থেকে উঠল। আমিও বিছানা থেকে উঠলাম। আমি সাবিনার কাজে সাহায্য করলাম। একটু পরেই ফজরের আযান দিল। সাবিনা নামায পড়ার জন্য অজু করে নামাজে দাড়ালো। আমি এবাই সত্যিই বুঝতে পারলাম যে, আমি স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমার স্বপ্নটা বড় হবার দরকার ছিল। প্রধানমন্ত্রি শেখ হাসিনার সাথে আরো কিছু কথা বলতাম। সবার আগে শিক্ষা বিভাগ দূর্ণীতিমুক্ত করার কথাও বলতাম। বলতাম জাতীয়করণের কথা।

Comments are closed.