ময়মনসিংহ শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দুরে  ছোট্র একটি গ্রাম রাজগন্জ , এই গ্রামেই জন্মের পরই আমেনা বেগম চম্পা দেখেছে গ্রামের মানুষের অজ্ঞতা কুস্ংস্কারগুলোর জন্য কত প্রতিভা মাঠেই মারা যায় । ছোট বেলা থেকেই কেন জানি আমেনা বেগম চম্পা এর ব্যতিক্রম ছিল যা সে কখনও কুস্ংস্কার মানেনি।

যার ফলে সব সময় মুরুব্বিদের বকা খেতে হয়েছে অপবাদ সহ্য করতে হয়েছে। পরিচিত পৃথিবী বলতে গ্রামটিই ছিল তাও যাতায়াত সীমিনা ছিল কয়েকটা বাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ। গ্রামের তাঁর মত আর দুরন্ত মেয়ে ছিল না। চিন্তাভাবনা ছিল অন্যের চেয়ে ব্যতিক্রমী হওয়া। মা বাবা শিক্ষিত কিন্তু লেখাপড়া ছাড়া অন্য কোন সৃজনশীল কোন সাপোর্ট পায়নি কারও কাছ থেকে। লেতু মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয় ছিল বাড়ির আঙ্গিনা লেতু মন্ডলের বংশধরদের জমিতে লেতু মন্ডলের দৌহিত্র আমেনা বেগম চম্পা বাবার হাতে গড়া স্কুলের প্রতিটি ইট পাথরের সাথে খেলে ,পড়ে, বড় হয়ে স্কুলের গন্ডি পেরিয়েছে।

এবার গ্রামের বাইরে উচ্চ শিক্ষার পালা দাদা কিছুতেই পড়তে দেবে না ।গ্রাম থেকে দুরের শহরে গিয়ে পড়াশুনা করাটা ছিল খুব কষ্টের কারণ এই গ্রামের তখন চম্পা একমাত্র মেয়ে যে এস এস সি পাশের পর আবার কলেজে পড়ে । দুরের পথ একা পাড়ি দিয়ে কলেজে যায়  চম্পা। কুসংস্কারাছন্ন কৌতুহলি লোকজন তখন কত কথা অপবাদ, কত প্রশ্ন করে বেড়াতো। না চম্পা কিছু তোয়াক্কা করেনি সব পায়ে মারিয়ে লক্ষ্যে পৌছার চেষ্টা চালিয়ে যায়। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে আমিই সব কিছু  হাল ধরব এই গ্রামের পরর্বতী প্রজন্মকে কুসংস্কার মুক্ত করার, মেয়েদের নিয়ে এগিয়ে যাবার। হ্যা চম্পা পেরেছে আজ ১৫ বছর ধরে গ্রামের সেই লেতু মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে আছে;  যোগদান করার পরই চিন্তা করল, তাঁদের (চম্পার অতীত) সময় মেয়েরা কোন কোন জায়গাগুলোর সহযোগিতার জন্য এগুতে পারেনি সেগুলো চিহ্নিত করে নিজে ঐ বিষয়গুলোর প্রশিক্ষণ নেয় তারপর এগিয়ে চলে মেয়েদের নিয়ে। আজ লেতু মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয়ের মেয়েদের সব বিষয়ে এগিয়ে আছে  সাংস্কৃতিক, পড়াশুনা, খেলাধুলা , স্কাউটিং, নেতৃত্বে দেশের বাইরেও এই স্কুলের মেয়েদের অংশগ্রহণ রয়েছে। আজ এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হলেন আমেনা বেগম চম্পা।চম্পা শুরুতে সহকারি শিক্ষক কমপিউটার, তখন চিন্তাও করতেন সব সময় ডিজিটাল উন্নতির।  শিক্ষকদের কিভাবে ডিজিটালাইজড করা যায়? গ্রামের স্কুল যেখানে শতকরা ৮৫ জনই ফ্রি সহ বিভিন্ন সুবিদা প্রাপ্ত । বিদ্যালয়ের একটা ফ্যাসিলিটির বিল্ডিং ১ তলায় তিনটি রুম কমপ্লিট। বাকি রুমগুলো টিন, হাফ বিল্ডিং , তারপরও বিদ্যালয় ডিজিটালে পিছিয়ে নেই সরকারের প্রজেক্টর ল্যাপটপ দেওয়ার পর থেকে একটানা ২০১৩ সাল থেকেই চলছে । স্কুল এলাকায় নেট থাকেনা শহরে বসে কাজ করে আমেনা আক্তার চম্পা  শিক্ষক বাতায়নে সেরা শিক্ষক হয়েছে। ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরী করতে অন্য শিক্ষকদের সাহায্য করতেন।  সবার র্স্মাট ফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপডেট রয়েছে যা শ্যায়ার করে তাদের গ্রুপ চ্যাটের মাধ্যমে মোবাইলে । দুইটি প্রজেক্টরে প্রতিদিন চলছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস। এখন মাল্টিমিডিয়া মনিটরিং এপস ব্যবহার সবাই পারে সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনা করছে ।

স্কুলের ইনকাম অনুযায়ী নিজের পরিশ্রমে স্কুল ম্যানেজম্যন্ট সফটওয়ারের মাধ্যমে পরিচালনা করা। আমেনা আক্তার চম্পা  সি.সি. ক্যামেরার মাধ্যমে স্কুলের কার্যক্রম মনিটরিং করে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ডিজিটাল হাজিরার ব্যাবস্থা। ৪ বছর যাবত আমেনা আক্তার চম্পা লেতু মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। চম্পার স্বপ্ন অবহেলিত গ্রামের স্কুলকে ডিজিটাল স্কুলে রুপান্তরীত করা। স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নপুরণের একজন সৈনিক হয়ে সব ছাত্রদের ডিজিটালের বার্তা পৌছে দেওয়া । আমেনা আক্তার চম্পার নেতৃত্বে লেতু মন্ডল উচ্চ বিদ্যালয় বাংলাদেশে সুপরিচিতি লাভ করতেছে।  আমেনা আক্তার চম্পা শিক্ষক বাতায়নে সেরা নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়েছেন। তিনিই প্রথম নারী শিক্ষাক বাতায়নে সেরা নেতৃত্ব অর্জন করেন।

2 Comments

Shahzaman ShuvohDecember 18, 2019 at 11:30 am

ধন্যবাদ

 

Shahzaman ShuvohDecember 18, 2019 at 11:30 am

ধন্যবাদ