খুব ভোরে আমাদেরকে হিথ্রো বিমান বন্দরের গেইটে নামিয়ে উইলিয়াম ক্রিস এবং গাড়ির ড্রাইভার আমাদের কাছে থেকে বিদায় নিল। হিথ্রো বিমান বন্দরে ডুকাও একটি বিশাল কাজ। নানা রকম চেকিং পার করতে হয়। হাতে কোন তরল বা জেলি জাতীয় কিছুই রাখতে পারিনি। আমার হ্যান্ড ব্যাগে ভেসলিন ছিল যা শীতের কারণে ব্যবহার করতাম তাও ফেলে দিতে হলো। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো আমাদের প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী কিছু নাড়ু (মিষ্টি জাতীয় খাদ্য বা পিঠা) দিয়েছিল খাবারের জন্য। আমরা সবগুলো খেতে পারিনি। ফলে কিছু ফেরত আনতে চেয়েছিলাম।  আমাদের একজন বলল এইগুলো বোম মনে করলে খবর আছে। সাথে সাথে নাড়ু এবং পিঠা ডাস্টবিনে ফেলে দিলাম। হাতে খাবার পানি পর্যন্ত রাখতে পারিনি। খুব কঠিন ভাবে আমাদের চেকিং করল। চেকিং এর সময় আমাদের জোতিষ চন্দ্র রায়কে আলাদা করে বিশেষ কক্ষে নিয়ে চেকিং করেছে। ল্যাপটপ, ব্যাগ, বেইল, জুতা ইত্যাদি সবই পূঙ্খানুরূপে চেকিং করেছে। এয়ারপোর্টের পুলিশি মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমান নিরাপত্তা সিকিউরিটি ইউনিটের দায়িত্ব, যদিও গৃহযুদ্ধের বর্মযুক্ত যানবাহন সহ সেনাবাহিনী মাঝে মাঝে উচ্চতর নিরাপত্তার সময় বিমানবন্দরে স্থাপন করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ শরীর স্ক্যানারগুলি এখন বিমানবন্দরে ব্যবহার করা হয়, এবং যাত্রীদের যারা নির্বাচিত হওয়ার পরে তাদের ব্যবহারের জন্য আপত্তি জানায় তাদের একটি ব্যক্তিগত ঘরে হস্ত অনুসন্ধান জমা দিতে হবে। স্ক্যানারগুলি কার্টুন-শৈলী চিত্র হিসাবে যাত্রীদের দেহকে প্রদর্শন করে, যেখানে লুকানো আইটেমগুলি প্রদর্শিত হতে পারে তা নির্দেশকের সাথে। নতুন চিত্রাবলী গোপনীয়তার অভিযোগগুলির অভিযোগে ২011 সালের সেপ্টেম্বরে একটি ট্রায়াল হিসাবে প্রাথমিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছিল।

চেকিং পর আমরা হিথ্রো বিমান বন্দরের ভিতরে কেনাকাটাও করলাম। এই হিথ্রো বিমান বন্দর (ইংরেজীতে: London Heathrow Airport) যুক্তরাজ্যের সর্ববৃহৎ বিমানবন্দর। যাত্রী পরিবহণের দিক থেকে এটি পৃথিবীর চতুর্থ ব্যস্ততম বিমানবন্দর। ইউরোপীয় ইউনিয়নে এটি সর্বাধিক ব্যস্ততম বিমানবন্দর। বিএএ লিমিটেড এই বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ। বিএমআই, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও ভার্জিন আটলান্টিক এয়ারওয়েজ হিথ্রো বিমানবন্দরকে প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে। সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে হিথ্রো বিমানবন্দর ১২ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে অবস্থিত। এই বিমানবন্দরে পূর্ব-পশ্চিমে বিস্তৃত দুইটি সমান্তরাল রানওয়ে ও চারটি টার্মিনাল আছে। প্রায় ৯০টি এয়ারলাইন্স লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দরে চলাচল করে। এসব এয়ারলাইন্স বিশ্বের প্রায় ১৭০টি শহরের সাথে যুক্তরাজ্যকে সংযুক্ত করেছে।

হিথ্রো বিমানবন্দরটি 19২9 সালে হিথ্রোর বাগানের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে একটি ছোট বিমানের (গ্রেট ওয়েস্ট অ্যারোড্রোম) হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল, যার থেকে বিমানবন্দরটি তার নাম নেয়। সেই সময় সেখানে খামার, বাজারের বাগান এবং বাগান ছিল: পুরানো টার্মিনাল 1 যেখানে ছিল “হিথ্রো খামার” এবং যেখানে “হীরো হল” এবং “হিথ্রো হাউস”, সেখানে টার্মিনাল 2 ছিল। এই হ্যামলেটটি মূলত একটি দেশের লেন (হিথ্রো রোড) বরাবর ছিল যা বর্তমান কেন্দ্রীয় টার্মিনাল এলাকার পূর্ব ও দক্ষিণ প্রান্ত বরাবর দৌড়ে গিয়েছিল।

1944 সালে একটি খুব বড় বিমানবন্দর হিসাবে সমগ্র হিথ্রো অঞ্চলের বিকাশ শুরু হয়: এটি পূর্ব-পূর্বের জন্য দীর্ঘ দূরত্বের সামরিক বিমানের জন্য ব্যবহৃত বলে মনে করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পর্যন্ত বিমানবন্দরটি সমাপ্তির কাছাকাছি ছিল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়েছিল। সরকার বেসামরিক বিমানবন্দর হিসাবে বিমানবন্দর বিকাশ অব্যাহত। বিমানবন্দরটি লন্ডন বিমানবন্দর হিসাবে ২5 মার্চ ১৯৪৬ খোলা হয়েছিল এবং 1966 সালে হিথ্রো বিমানবন্দর নামকরণ করা হয়েছিল। বিমানবন্দরের জন্য মাস্টারপ্ল্যান [স্পারিফিকেশন প্রয়োজন] ডিজাইনার স্যার ফ্রেডারিক গিবার্ড দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছিল, যিনি আসল কন্ট্রোল টাওয়ার সহ মূল টার্মিনাল এবং কেন্দ্রীয় এলাকা ভবনগুলি ডিজাইন করেছিলেন। এবং সেন্ট জর্জ এর বহু বিশ্বাস চ্যাপেল।

 

ঢাকা হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর নেমেই আমি বহির্গমন ফরম ফিলাপ করে ইমিগ্রেশনে জমা দেবার পর আমার হাত ব্যাগ খুজে পাচ্ছিলাম না। আমার ল্যাপটপের এই হ্যান্ডব্যাগ বিমান বন্দরে আরেকবার হারিয়েছিলাম। আবার হারালাম। অনেক খোঁজা খুঁজির পর পেলাম। ব্যাগ পেয়ে আল্লাহর নিকট শোকরিয়া করলাম।

 

প্রধান শিক্ষক তাঁহার স্ত্রীকে ফোন দিলেন। ফোনের অপর প্রান্তের কথা অনুযায়ী বুঝলাম, স্যারের মেয়ে সাদিয়া আক্তার মৌ ও মৌয়ের মা গাড়ি নিয়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

 

 

Comments are closed.