আমি প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ভূইয়াকে বললাম, স্যার আমি তো যুক্তরাজ্যে যাব। আমাদের প্রজেক্টের আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। আমি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে আমার স্কুল পার্টনার স্কুলে যাব আর লরা লিন্ডা বাংলাদেশে আমাদের বিদ্যালয়ে (বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলি আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়) আসবে। প্রধান শিক্ষক হেঁসে হেসে বললেন, তুমি যুক্তরাজ্যে গেলে আমাকেও সাথে নিতে হবে নতুবা তোমাকেও যাবার অনুমতি দেব না।

 

রিসিপ্রোক্যাল ভিজিটে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক কো-অর্ডিনেটর যেতে পারবে অন্য কেউ নয়। আমি বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলি আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক কো-অর্ডিনেটর, কাজেই শুধু আমিই যেতে পারব, প্রধান শিক্ষক যেতে পারবে না। আমি প্রধান শিক্ষকের আগ্রহকে গুরুত্ব দিলাম। তিনি নিজেও কয়েকবার বলেছেন, তিনি যাবেন ভিজিটে।

 

আমি স্কুল এম্বাসেডর মোহাম্মদ খোরশেদুজ্জামান স্যারের সাথে আলাপ করলাম। তিনি বললেন, এই বছর আপনি আপনার প্রধান শিক্ষককে পাঠান পরের বছর আপনি যাবেন। আর যদি আপনার প্রধান শিক্ষক রাজী থাকে তাহলে আপনি এই বছর যান, আগামী বছর আপনার প্রধান শিক্ষককে পাঠাবেন। তারপর আমি ফারিহার সাথে আলাপ করলাম। ফারিয়া বলল, আপনার প্রধান শিক্ষককে পাঠাবেন না। উনি তো প্রজেক্টের সাথে জড়িত নন। আমি বললাম, ম্যাম, উনি প্রজেক্টের অনুমতি দেন কাজে আমার চেয়ে উনার গুরুত্ব বেশি। ম্যাম, বললেন, বাংলাদেশ থেকে অনেক শিক্ষক যুক্তরাজ্যে গিয়ে হাইড হয়ে যায়। আমি বললাম, আমার প্রধান শিক্ষক হাইড হবেন না কারণ তিনি এখানে অনেক ভাল অবস্থানে আছেন। অনেক যুক্তি পালটা যুক্তির পর ফারিয়া বললেন, লরাকে বলেন স্পন্সার দিতে তবে আমরা শুধু একজনের খরচ বিয়ার করব। ফারিয়ার তাহানিন ম্যামের এই কথায় আমি খুবই খুশী হলাম।

 

আমি লরাকে আমার প্রধান শিক্ষককের ব্যাপারে বিস্তারিত বললাম। লরা লিন্ডা তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও গভনরের সাথে আলাপ করে আমাকে হ্যাঁ-সূচক জানাল। আমি এই খুশীর খবর জানালাম। তিনিও খুশী হলেন। আমি প্রধান শিক্ষককে পাসপোর্টের জন্য তাগিদ দিলাম। তিনি বললেন, দেখ পাসপোর্ট করার পর আবার না করলে কিন্তু আমার মান সম্মান যাবে। আমি বললাম, স্যার আল্লাহ ভরসা।

 

বৃট্রিশ কাউন্সিলের সাপোর্টিং লেটারের জন্য পাসপোর্ট, বার্থ সার্টিফিকেট, বাচ্চার বার্থ সার্টিফিকেট এবং কাবিনা নামা ও মেরিজ সার্টিফিকেট বৃট্রিশ কাউন্সিলে জমা দিতে হবে।  প্রধান শিক্ষক বললেন, বিদেশ যাব আমি আর কাগজপত্র চায় বউ বাচ্চার? আমি বললাম, স্যার, এটা উনাদের হয়তো কোন নিয়ম। কাজেই জমা দিতে হবে। স্যার এই সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করলেন। আমিও এইগুলো সংগ্রহ করলাম। দুজনের কাগজপত্রই একসাথে জমা দিলাম।

 

Comments are closed.