গতকাল ১৯/০৭/২০১৯  রাত আটটা ঊনিশে নাহিদ ভাইয়ের মোবাইল নাম্বার থেকে কল আসল। নাহিদ ভাই মারা গেছেন প্রায় চল্লিশ হবে। তাঁহার মোবাইল নাম্বারটা এখনো সেভ করা আছে। সেভকরা নাম্বার দেখে আমি চমকে যাই। আমি খুশী হতাম যদি নাহিদ ভাই জীবিত হয়ে যেতেন। তিনি তো আর আসবেন না। কারণ এই মহাজাগতিক কসমেটিক ট্রাভেলে যাবার রাস্তা আছে কিন্তু ফিরে আসার রাস্তা নেই। যাবারও কোন টাইম টেবিল নাই। আসার একটা স্বাভাবিক সিরিয়াল পাওয়া যায় যেমনঃ দাদার পর পিতা,পিতার পর আমি কিন্তু যাবার সময় কোন সিরিয়াল মানা হয় না। কী অদ্ভুত শ্রষ্টার লীলাখেলা!

 

ফোনের অপর প্রান্ত  থেকে আমার আগেই সালাম দিলেন। আমি ওয়ালাইকুম বলে, বললাম আপা  কেমন আছেন? অপর প্রান্ত থেকে বললেন, ভাল আছি। আমি বললাম, আপনার বাবুরা কেমন আছে?  অপর প্রান্ত থেকে বললেন, আপনার ভাই যেমন রেখে গেছেন। এরপর (আমার আর কোন ভাষা আসতেছে না) বললেন, আগামীকাল চল্লিশা, আপনি আসতে পারবেন। আমি বললাম, আমি রিয়াজ ভাইয়ের সাথে আলাপ করে আপনাকে জানাব। উনি বললেন, আপরা কে কে আসবেন সংখ্যা জানাইয়েন। আমি বললাম, আমাদের জন্য কিছুই করার দরকার নেই, আমরা আসলেও শুধু আপনার ছেলেকে দেখে আবার চলে আসব।

 

ফোনের পর আমার কাছে মনে হলো নাহিদ ভাই মরে নাই। এই তো সেইদিন আমার সাথে কথা হল। তার স্কুলের রেজিষ্ট্রেশনের ব্যাপারে। নাহিদ ভাই তার স্কুলের ছেলে মেয়েদের প্রতি খুবই আন্তরিক এবং সেবামুলক ছিল। আমি প্রায় বলতাম,কেজি স্কুল দিয়েও আপনার ইনকাম হয় না? এখন তো এটা একটা ভাল ব্যবসা। নাহিদ ভাই বলতেন, ভাই এরা আলোকিত মানুষ হলেই আমাদের তৃপ্তি। এদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে কোন লাভ নেই। এটা একটা সেবামুলুক কাজ। এর প্রতিদান আল্লাহ দিবে।

 

আমি কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েটের ফি সঠিক সময়ে দিতে পারিনি। নাহিদ ভাই তখন আমাকে চিনতেন না তবে আমার  কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট  রেজিষ্ট্রেশন ফি জমা দিয়েছিলেন। আমাকে ঢাকায় থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন।  কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট  রেজিষ্ট্রেশন ফি আমি নাহিদ ভাইকে দিয়েছিলাম। কোয়ান্টামের জন্য নিবেদিত প্রাণ ছিলেন নাহিদ ভাই।

Comments are closed.