একদিন জামান আমাকে ফোন করেই কান্না-কাটি শুরু করলা। স্ববত ফোন করে কেমন আছস? জিজ্ঞাসা করে, আর আজ কান্না শুরু করে দিল। আরে কান্না তো নারীদের ভূষন,তুই কাঁদস কেন? এই কথা বলার পর আরো কান্নার আওয়াজ বেড়ে গেল। আমি লক্ষ্য করলাম,কান্নার গভীর আবেগ। বড় ধনের আঘাত ছাড়া এইরুপ কান্না আসতে পারে না? তাই তো জিজ্ঞাসা করলাম খালার শরীর খারাপ? আমি আর বলি না তোর মা মারা গেছে? শুধু বললাম  খালার শরীর খারাপ? জামান শুধু না বলে আবার কান্না। আমি বললাম, আরে কি হয়েছে। পুরুষ মানুষের কাঁদতে নেই।

জামান কান্না কান্না জড়িত কন্ঠে বলল, পপি চলে গেছে। চলে গেছে মানে? বাপের বাড়িতে না? ঢাকায়? জামান বলল, এক ছেলের সাথে ভাগগাইয়া গেছে। এবার আমি আকাশ ভেংগে পড়লাম। গত মাসেও তো টাকা পাঠাইছস? জামান নিশ্চুপ; একটু পর আবার কান্না, আমি কি ভুল করলাম? আমার কি দোষ বল, বলেই আবার কান্না।

আমি পপিকে দেখেছি। খুবই সুন্দরী মেয়ে। জামানের সাথে প্রেম করে বিয়ে করেছে। বিয়ের পরেও দেখলাম তাদের দাম্পত্তি জীবন ভাল ও সুখের। একটি পুত্র সন্তানও আছে। দাম্পত্ত জীবন আরো সুখের করার জন্য টুরিস্ট ভিসায় মালয়শিয়া এসে অবৈধভাবে থেকে টাকা উপার্জন করছে। টাকা ছাড়া নাকি জীবন সুখের হয় না; তাই মালয়শিয়ায় এসেছে।

শরীর স্বাস্থ্য খুবই ভাল। কনস্ট্রাকশনে ভাল করে। পরিশ্রমের কাজ করতে পারে। বেতনও ভাল। পুলিশ ও ইমিগ্রেশন ফাঁকি দিয়ে অনেক কষ্টে স্ত্রী ও সন্তানের জন্য টাকা পাঠায়। আলাদা বাসা করে শ্বাশুরী, স্ত্রী ও সন্তানের জন্য শত কষ্ট করে হলেও জামান টাকা পাঠাতে ভুল করে না। প্রতি মাসে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠায়। মোট কথা কোন অভাবে স্ত্রীকে অভাবে রাখে না। পপি খুবই ভালবাসতো জামান। আমার সাথে মাঝে মধ্যে পপি নিয়ে খুবই অহংকার করে। তাদের প্রেম কাহিনীও বলতো আর আজ মাত্র দুবছর না যাইতে এক রিক্সাওয়ালা ছেলের সাথে নিজের ওরোশজাত সন্তানকে ফেলে চলে গেল। ভাবতে অভাক লাগে।

আমি তার কান্না কিছুটা শীতিল হবার পর বললাম, আরে তুই মিথ্যা শুনেছস? কে দিল তোকে এই খবর? এতবড় সুসংবাদ কী শোনা বাকী থাকে? জামান বলল, বাড়িতে ফোন করে জানলাম তাছাড়া আমার শ্বাশুরীকেও ফোন করে সত্যতা জানলাম। আমি তাকে কী বলে শান্তনা দেব, ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।

Comments are closed.