কিছুদিন আগে বাংলাদেশের সকল বিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট নির্বাচন হল। আমাদের বিদ্যালয়ের একটি কাহিনী আমার মনকে নাড়া দিল। আমি বুঝতে পারছি না, জাল ভোটের শিক্ষাটা কে দিল? জাতীয় নির্বাচন না আমাদের শিক্ষার দুর্বলতা।

বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলি আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট ক্যাবিনেট এর প্রধান নির্বাচন কমিশনার হল দশম শ্রেণির ঝুমা সুত্রধর। ঝুমা সুত্রধর এর দুজন সহকারি হলেন নবম শ্রেণির দুজন শিক্ষার্থী। নির্বাচনে সমন্ময় করবেন আমাদের সহকর্মী মোহাম্মদ মামুন মিয়া। আমরা সকল শিক্ষক সাক্ষী গোপাল আর মনিটরিংকরব। নির্বাচন ভালই চলছিল। কোন অভিভাবক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেইনি। ফলে নির্বাচন প্রভাবমুক্ত সুষ্ঠভাবে চলেছে। আমি নবমশ্রেণির বুথে জানতে পারলাম, জাল ভোটার এসেছে। প্রিজাইডিং হল নবম শ্রেণির আর জাল ভোটারও নবম শ্রেণির। আমি বললাম কে জাল ভোটার? প্রিজাইডিং তার সামনের ছেলেটি দেখিয়ে আমাকে বলল স্যার এই ছেলে এইটে আমাদের সাথে পড়তো কিন্তু নাইনে ভর্তি হয় নাই। এখন বলে, সে ভোটার। আমি জাল ভোটারওয়ালাকে বললাম তোমার নাম কী? সে বলল, রায়হান কবির। রোল নাম্বার কত? উত্তর দিল বিজ্ঞান ২২। তার তথ্যের সাথে ভোটারের সম্পূর্ণ মিল আছে কিন্তু সে রায়হান কবির নয়। কারণ আমি নবম শ্রেণির ক্লাশ টিচার। আমি সবাইকে চিনি। রায়হান কবির নামে একটি নতুন ছাত্র, হোমনা থেকে ছাড়পত্র নিয়ে আমাদের এখানে ভর্তি হয়েছে কিন্তু ক্লাশে আসে না। তথ্যে সাথে সম্পূর্ণ মিল আছে তাই জাল ভোটও বলতে পারছি না। বেগতিক দেখে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম? আমি কোন স্কুলের স্যার? সে উত্তর দিল, বাতাকান্দি হাইস্কুলের স্যার। আমি বললাম, কোন ক্লাশের ক্লাশ টিচার? সে বলল নবম শ্রেণির। আমি বললাম, আমি তোমাকে চিনি না কেন? সে বলল, স্যার আমি নিয়মিত আসি না। আমি রেগে তাকে একটা থাপ্পর দিলাম। তারপর প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে আসলাম।

প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তাকে বললাম, সত্য কথা না বললে পুলিশে দিয়ে দিব। প্রধান শিক্ষককে বললাম, এই ছেলেকে আমি চিনি না আর সে বলে নাইনের ছাত্র। তাও আবার ডাক্তারের ছেলের পরিচয় দেয়। এই সময় আমি বেত আনার জন্য কয়েকজনকে বললাম। ডলি আপা বেতের জন্য বাহিরে গেলেন। এইবার জালভোটার বলল, স্যার আমি এইটে পড়ি, আমার নাম ইউসুফ। স্যার এইটে এক বিষয় ফেল করেছি বিধায় নাইটে ভর্তি হতে পারিনি। স্যার আমি বন্ধুদের অনুরোধে জাল ভোট দিতে এসেছি। এবার ছেলেটির কথা সত্য মনে হল তাই আমি প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে বের হয়ে গেলাম।

Comments are closed.