বাংলাদেশের প্রথম মডেল থানা ভালুকায় নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে যে প্রতিষ্ঠানটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করছে সেটি হচ্ছে হালিমুন্নেছা চৌধুরাণী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৮৯ সালে সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আমান উল্লাহ চৌধুরী তার দাদী হালিমুন্নেছা চৌধুরাণীর নামে এ প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করেন। প্রতিষ্ঠালগ্নে এ প্রতিষ্ঠানটি ভালুকা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রভাতী শাখায় কার্যক্রম পরিচালনা করতো । পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে ভালুকা বাজার সংলগ্ন খিরু নদীর তীরে মনোরম পরিবেশে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত করা হয় । প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এ প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে ভালুকায় শিক্ষার পাশাপাশি সহ-পাঠ্য কার্যক্রমে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন পদক গ্রহণ করে আসছে । প্রতিষ্ঠানটি হাতে গোণা কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এখন বারো শতাধিক শিক্ষার্থীর পদচারনায় মুখরিত । জেনারেল শাখার পাশাপাশি কারিগরি শাখাও রয়েছে।কারিগরি শাখায় মেয়েদের হাতে কলমে শিক্ষা দিয়ে দক্ষ জনসম্পদ তৈরি করা হয়।

হালিমুন্নেছা চৌধুরাণী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ২০১৭ শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয় নির্বাচিত হওয়াসহ ৬টি ক্যাটগরিতে ও ২০১৮ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহেও ৬টি ক্যাটগরিতে উপজেলায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।
বিদ্যালয়ের স্কাউটদল ২০১৬ সালে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের প্রায় এক কিলোমিটার ও ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারী আধা কিলোমিটার রাস্তা বিদ্যালয়ের টাকায় সংস্কার করে এলাকায় সাড়া জাগিয়েছে। বিদ্যালয়ের স্কাউটদল সমাজ উন্নয়নে বিশেষভাবে অবদান রাখছে । বেশ কয়েকজন স্কাউটসদস্য সমাজ উন্নয়ন পদকও পেয়েছে । ২০১৮ সালে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাজনুর আক্তার বাংলাদেশ স্কাউটসের সর্বোচ্চ পদক প্রেসিডেন্ট’স স্কাউট অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারা নীনা একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষক। তিনি ৬ বার উপজেলায় শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।তিনি দক্ষ হাতে সুশৃঙ্খলভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি সহপাঠ্য কার্যক্রম কঠোরভাবে মনিটরিং করেন। বিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষক বিদ্যালয়ের প্রতি খুবই আন্তরিক।
বর্তমানে ভালুকাবাসীর প্রাণের দাবি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, নারী শিক্ষার অগ্রদূত, শিক্ষাবান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনেনত্রী শেখ হাসিনা এ বিদ্যালয়টিকে জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে ভালুকার নারী শিক্ষাকে আরো একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

Comments are closed.