আগে একটি স্বাভাবিক ট্রান্সলেশন ছিল, ‘সে অংকে কাঁচা’। এটা প্রায় পরীক্ষায়ও আসতো। অংকে কাঁচা একটি কমন বিষয় ছিল। এটা আমার কাছে কঠিন। আমার বাবার কাছে কঠিন ছিল। আমার ছেলের কাছেও কঠিন। স্কুলে প্রাইভেটও কমন বিষয়। স্কুলে ক্লাশ কর আর না করো, অংক প্রাইভেটে হাজির থাকে ছাত্র। এদেশে অংক প্রাইভেট পড়া স্বাভাবিক। অংকের ভয় যেন বংশগতভাবে পাওয়া।

খুঁজলে প্রচুর মানুষ পাওয়া যাবে, যাদের গণিতে রয়েছে চরম ভয়। ছোট থেকে বড় সব ধরনের মানুষের মধ্যেই দেখা যায় গণিতের প্রতি একধরনের বিতৃষ্ণা। তবে তাদের এই যে গণিতভীতি, তা কিন্তু নতুন নয়। ছোটবেলা থেকেই গণিতের প্রতি তাদের যে ভয় ছিল, সেটাই বয়সকালে এসেও তাদের পীড়া দিচ্ছে।

যেহেতু বাচ্চাদের মধ্যেই গণিতভীতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়; সেহেতু আমরা যদি তাদের খেলতে খেলতে, মজা দিয়ে, ধাঁধা ধরে গণিত শেখাই, তাহলে আশা করা যায়, তাদের এই গণিতভীতি অনেক সহজেই দূর করা যাবে। বিভিন্ন গণিত বিষয় কুইজ কুইজ দিয়ে গণিত শেখালে বা গণিতের ব্যবহারিক করলে গণিত শিক্ষা সহজ হয়। মোট কথা গণিতকে আনন্দ ও সহজবোধ্যভাবে পড়ালে গণিত হয়ে উঠবে একটি সহজ বিষয়। গনিত সহজ হলে কমপিউটারের প্রোগ্রাম, বিজ্ঞান, পদার্থ ও রসায়নও সহজতর হয়ে উঠবে।  গণিতকে মজা করে শিখা ও সহজবোধ্য করার একটি বই ‘ছোটদের অঙ্ক সকলের গণিত’।  বইটি লিখেছেন শিক্ষাবার্তার প্রধান সম্পাদক এ.এইচ.এম. সায়েদুজ্জামান। জনাব এ.এইচ.এম. সায়েদুজ্জামান কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে গণিত বিষয়ে অনার্সসহ মাষ্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি শিশুদের গণিত বিষয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখা-লেখি করেন। তাঁর স্বপ্ন এই দেশের গণিত বিজ্ঞানীরা ফিল্ড্‌স পদক পাবে। ফিল্ড্‌স পদক গণিতের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার যা প্রতি চার বছর অন্তর প্রদান করা হয়। একে গণিতের নোবেল পুরস্কারহিসাবে বিবেচনা করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথেম্যাটিক্যাল ইউনিয়ন অনূর্ধ্ব চল্লিশ বছর বয়সের দুই, তিন বা চারজনকে একসাথে এই পুরস্কার দেয়। পুরস্কার প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অফ ম্যাথেম্যাটিশিয়ানে

কানাডীয় গণিতবিদ জন চার্লস ফিল্ডস এর আদেশক্রমে এই পুরস্কারের প্রচলন ঘটে। এটি সর্বপ্রথম প্রদান করা হয় ১৯৩৬ সালে এবং বিশ্বযুদ্ধ হেতু দীর্ঘবিরতির পরে ১৯৫০ সাল থেকে আজতক নিয়মিতভাবে প্রদান করা হচ্ছে। ২০১৪ সালে , মরিয়ম মির্জাখানি ছিলে প্রথম ইরানী ও প্রথম নারী যে এ পদক লাভ করে।অপেক্ষাকৃত তরুণ যেসব গণিত বিষয়ক গবেষক ইতোমধ্যেই গণিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সমর্থ হয়েছেন, তাদের উৎসাহিত এবং পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করাটাই এই পুরস্কার প্রদানের মূল উদ্দেশ্য। একজন গণিতবিদের জন্য ফিল্ড্‌স পদক হলো সর্বোচ্চ সম্মাননা। ফিল্ড্‌স পদক বিজয়ীর সবচেয়ে বড় সম্মান হলো আইএমইউ বা বিশ্ব গণিত সমাজ কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ।

 

 

‘ছোটদের অঙ্ক সকলের গণিত’ বইয়ের আলোচ্য বিষয় হলোঃ

ইতিহাস ও গণিতবিশ্ব।

যেখানে অঙ্কের সূচনা।

অঙ্ক,সংখ্যা এবং পাটিগণিত।

সেট।

জ্যামিতি।

ত্রিকোনামিতি।

তথ্য ও উপাত্ত।

কমপিউটার ও ক্যালকুলেটর।

শূন্য কীভাবে শূন্য।

রহস্যের ঘেরা আনলাকি থার্টিন।

রকমারি সংখ্যা।

গণিতের ভালো নম্বর পাওয়ার উপায়।

সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কিছু কথা।

দেখি সব পারি কি না?

উপরোক্ত বিষয়াবলী অনেক সহজভাবে ছোটদের উপযোগী ও বোধগম্যভাবে আলোকপাত করা আছে। এতে ছোটরা গণিতের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে এবং গণিত ভীতি দূর হবে। বইটি ছোটদের উপযোগী হলেও বড়রাও এক নিমিষেই পড়তে পারবেন ।

 

বইটি ২০১৯ সালের মেলায় আদিত্য অনীক প্রকাশনী প্রকাশ করেছে। বইটি রকমারি এবং দারাজের ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাবে। বইটির দামও হাতের নাগালে।

Comments are closed.