তিতাসের ফয়জুন্নেসা খ্যাত মহীয়সী নারী নাজমা বেগম

 

গত সাতই অক্টোবর ২০১৫ তারিখে বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলী আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উক্ত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট সমাজসেবক মরহুম বেলায়াত হোসেন সরকারের সহধর্মিণী এবং তিতাস উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পারভেজ হোসেন সরকারের মা নাজমা বেগম ৬৩ বছর বয়সে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
নাজমা বেগম ২০০২ সালে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়টির উন্নয়নে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহন করেন। বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, বিশাল মাঠটি ভরাট করে সারা বছর ব্যবহার উপযোগী করা, দুইটি দোতলা ভবন নির্মান প্রভৃতি উন্নয়নমূলক কাজগুলো তার উদ্যোগে সম্পন্ন হয়।
মরহুম বেলায়েত হোসেন সরকার প্রায় ৪ একর জায়গার উপর বিদ্যালয়টি স্থাপন করে গেলেও এর পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। ১৯৯৩ সালে তাঁর মৃত্যুর পর বিদ্যালয়টি খুব অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যখন যাচ্ছিল এমনই এক সময়ে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসেন নাজমা বেগম। নিজ কাঁধে তুলে নিলেন স্বামীর অপূর্ণ স্বপ্ন পূরনের দায়িত্ব। এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো সহজ লভ্য করে তুলতে সচেষ্ট হয়ে উঠেন তিনি।
নাজমা বেগমের প্রচেষ্টার ফলে বিদ্যালয়ের জেএসসি, এসএসসির ফলাফলে আসে ঈর্ষনীয় সাফল্য। এরই পুরস্কার হিসেবে বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলী আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় লাভ করে ব্রিটিশ কাউন্সিল প্রদত্ত International School Award (ISA) পুরস্কার। সেকায়েপ (SEQAEP) প্রদত্ত Incentive Achievement Award (IAA) পুরস্কার যার প্রাইজমানি ১ লক্ষ টাকা।
তিনি ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদেরকে যে কোন মূল্যে শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে আরও সচেষ্ট হতে উৎসাহ প্রদান করেন। সর্বশেষ তিনি বিদ্যালয়টিকে কলেজে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। আসলে সমাজ সেবার বিষয়টি তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পরিবার থেকেই অর্জন করেছিলেন। তাঁর বাবা মরহুম মনিরুল হক সিকাদার দীর্ঘ দিন বলরামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন।
বড়ভাই শহীদ আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। আরেক ভাই প্রিন্সিপাল শহীদুল্লাহ ঢাকার বোরহান উদ্দিন কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন কালে বাংলাদেশ শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনও করেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং চলচিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

Comments are closed.