বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষায় ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কৃষি শিক্ষা বাধ্যতামুলুক বিষয় ছিল। বর্তমানে ইহা আবশ্যিক বিষয় নয়। নবম দশমে অনেক আগেই ঐচ্ছিক বিষয়ে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। প্রায় ১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশে প্রায় শতকরা আশি ভাগ লোক কৃষি সাথে সম্পৃক্ত। অতচ কৃষি আবশ্যিক বিষয় নয়। এদেশের প্রধান খাবার ভাত ও মাছ যা কৃষিরই পন্য কিন্তু শিক্ষা পলিসিবর্গ ইহাকে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেনি। প্রতিবছর ১৪/১৫ লাখ পরিক্ষার্থী জ়ে. এস. সি পরীক্ষা দেয়। এই সংখ্যা দিন দিন বাড়বে কিন্তু এই ১৪/১৫ লাখ শিক্ষার্থী কিন্তু স্নাতক পরীক্ষা দিবে না। অধিকাংশই ঝড়ে যাবে। এই ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীর মূল পেশা হবে কৃষি। কৃষির মৌল শিক্ষা না পেয়ে কৃষি কাজ করলে উৎপাদন অবশ্যই কম হবে। আর কৃষির উৎপাদন কম হলে ভারতের কৃষি পন্য আমাদের দেশে আসা আবশ্যিক হয়ে যাবে। এখনই কৃষির উৎপাদন ভাল হবার পরও ভারতের কৃষিপন্য আমাদের দেশে প্রভাব বিস্তার করে। পিয়াজ, রসুন, ডাল, গরু-মহিষসহ আরো অন্যান্য কৃষি পন্য ভারতের দখলে। বাংলাদেশে যখন শিক্ষিত কৃষক একেবারে কমে যাবে তখন ভারত লাভবান হবে। ভারত আমাদের সীমান্তবর্তী দেশ কাজেই ভারতের মুখাপেক্ষী না হবার জন্য কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়ন খুব দরকার। আর কৃষির উন্নয়নের অন্যতম একটি মৌলিক বিষয় হলো মাধ্যমিক শিক্ষায় কৃষি বিষয় আবশ্যিক করা।

Comments are closed.