আমি ১৯৯৫ সালে দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা দিয়ে জানলাম, আমাদের ব্যহারিক ক্লাশ করতে হবে। ব্যবহারি ক্লাশ কী? ব্যবহারিক খাতা (পাকা খাতা) লিখা ও স্যারের স্বাক্ষর নেয়া। এর পর এইচ.এস.সির (বিজ্ঞান) সময় কিছু প্রাক্ট্রিক্যাল করেছি বিষয় ভিত্তিক স্যারের মাধ্যমে এবং নির্বাচনী পরীক্ষার পর ব্যবহারিক খাতা (পাকা খাতা) লিখা ও স্যারের স্বাক্ষর নেয়া। এই হল আমার জীবনের ব্যহারিক ক্লাশের স্মৃতি।

২০১০ সালে শিক্ষকতার যোগদান করলাম এবং এখনো দেখি আগের নিয়মে ব্যবহারিক ক্লাশ নেয়া ও খাতা স্বাক্ষর করা। কিন্তু ক্যারিকুলামে কোথাও নির্বাচনী পরীক্ষার পর ব্যহারিক ক্লাশ নিতে হবে এইরূপ নাই। ক্লাশ রুটিনগুলোতেও ব্যহারিক ক্লাশ এর জন্য আলাদা কোন সময় বরাদ্ধ নাই। কাজেই এটা প্রমাণিত হয় বিষয়ের প্রয়োজনে প্রতিটি ক্লাশই হবে ব্যবহারিক ক্লাশ। এতে আলাদা ব্যহারিক ক্লাশ এর ভীতি তৈরি করার কোন ভিত্তি নাই। ব্যহারিক ক্লাশ কোন ভীতিকর নয় বরঞ্চ খুবই শিক্ষানীয় ও চিত্তাকর্ষ। ব্যহারিক ক্লাশ এর কাচা খাতাটিও যদি সময়মত করি তাহলে ছাত্র/ছাত্রীরা ব্যহারিক ক্লাশ এর পাকা খাতা সহজে করতে পারবে। আরেকটি অপ্রিয় কথা হল ব্যবহারিক খাতা অনেক ছাত্র/ছাত্রীরা নিজের লিখে না, অন্যকে বা শিক্ষক দিয়ে বা সিনিয়রদের দিয়ে ব্যবহারিক খাতা তৈরি করে বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের স্বাক্ষর নেয়। বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিক্ষা পোর্টাল শিক্ষক বাতায়ন এর ব্লগ থেকে জানতে পারলাম যে, এস.এস.সি ব্যবহারিক পরীক্ষার সময় অতিরিক্ত টাকা আদায় করে শিক্ষকরা ভূরিভোজ করে।

প্রবাদে আছে, “I hear –I forget, I see-I remember but I do-I Learn.” বিশেষ করে বিজ্ঞান শেখার ক্ষেত্রে এটা ধ্রুব সত্য। বিজ্ঞান শিখন –শেখানোর ক্ষেত্রে সকল শিক্ষাবিদ learning by doing কে প্রাধান্য দেন। learning by doing বা করে শেখাই ব্যবহারিক শিক্ষা। এই শিক্ষা শিক্ষন প্রক্রিয়ায় একঘেয়েমি দূর করে, শিখন স্থায়ী করে,যৌক্তিক চিন্তার বৃদ্ধি ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কাজেই ব্যবহারিক ক্লাশ ভীতিকর না করে বিষয়ের প্রয়োজনে প্রতিটি ক্লাশই করতে হবে ব্যবহারিকভাবে।

মোহাম্মদ শাহজামান শুভ

সহকারি শিক্ষক

বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলি আবুল হোসেন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়

তিতাস,কুমিল্লা।

Sourch: http://shikshabarta.com/2016/12/05/%E0%A6%AD%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF-…

Comments are closed.